
মাল্টা চাষে আশরাফের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন
নরসিংদী প্রতিনিধিমাল্টা ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল। রসালো ফলের মধ্যে এটি অন্যতম। এই ফল চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন নরসিংদীর আশরাফ হোসেন।
পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামে আশারাফের বাড়ি। নিজের জমিতে বহু বছর ধরে বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে আসছেন তিনি। কৃষি অফিসের পরামর্শে ২০ শতাংশ জমিতে দেশীয় মাল্টার আবাদ করেছেন। চারা রোপণের মাত্র দুই বছরের মাথায় প্রতিটি গাছে ফলন এসেছে। আর এই মাল্টা চাষের মধ্য দিয়ে নিজের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে বারি-১ দেশীয় জাতের মাল্টা চাষ শুরু হয় পলাশ উপজেলায়। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এই জাতীয় মাল্টার ২০টি প্রদর্শনী বাগান করা হয়েছে। প্রতিটি বাগানে আশানুরুপ ফলন এসেছে।
সরেজমিন জিনারদীর দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামে কৃষক আশরাফ হোসেনের মাল্টা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে সবুজ রঙের মাল্টা। আকারও বেশ বড়।
কৃষক আশরাফ হোসেন জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় প্রথম বারের মতো জমিতে মাল্টার চাষ করেছেন। বাগানে ৬০টি গাছ রয়েছে। দুই বছর আগে চারাগুলো কৃষি অফিস তাকে বিনামূল্যে বিতরণ করে। প্রতিটি গাছে ১২০ থেকে ১৫০টি করে মাল্টার ফলন এসেছে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মাথায় ফলন সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশা করছেন আশরাফ।
তিনি বলেন, এর আগে এই জমিতে কলার আবাদ করেন। মাল্টার ভালো ফলন পেয়ে এখন এটি বড় আকারে করার চিন্তা করছেন। ইতোমধ্যে মাল্টা পাক ধরেছে। সেগুলো খেতে বেশ রসালো ও মিষ্টি। তাই মাল্টা চাষ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
আশরাফ হোসেনের এই বাগান দেখে আশপাশের অনেক কৃষক এখন এই জাতের মাল্টা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। মাল্টা চাষে আগ্রহী ওই গ্রামের রনি পাল জানান, এত দিন লিচু-পেয়ারার বাগান করেছেন। এখন মাল্টা বাগান করবেন বলে চিন্তা করছেন।
জিনারদী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম মিয়া জানান, দুই বছর আগে বিনামূল্যে বারি-১ জাতের মাল্টার চারাসহ উপকরণ বিতরণ করা হয়। এই এলাকার মাটির গুণাগুণ ভালো হওয়ায় কৃষকদের মাল্টা চাষের পরামর্শ দেয়া হয়। তারা প্রথম বারের মতো হওয়ায় এই আবাদ নিয়ে কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিলেন। তাদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এখন বাগান জুড়ে মাল্টা ফলায় কৃষকরা খুশি।
তিনি জানান, মাল্টার ফলন ভালো হয়েছে। মাল্টা খেতেও বেশ সুস্বাদু। আগামীতে মাল্টার আবাদ অনেক বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম জানান, পলাশ উপজেলার জিনারদী, চরসিন্দুর ও ডাঙ্গা ইউনিয়নে প্রাথমিক পর্যায়ে ২০টি বাগানে বারি-১ জাতের মাল্টার আবাদ করা হয়েছে। এ জাতীয় মাল্টা পাকা অবস্থায় সবুজ রঙ হয়ে থাকে। বাজারে বিদেশি মাল্টার রঙ হলুদ। বিষমুক্ত এ জাতের মাল্টায় কেমিকেল ব্যবহার করে হলুদ বর্ণ না করার জন্য কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে।
নরসিংদী/গাজী হানিফ মাহমুদ/বকুল
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2P9REpa
0 comments:
Post a Comment