
শীতে কাঁপছে ওরা
আজাহার ইসলামকুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকাল। থমথমে পরিবেশ। দিন দিন বেড়েই চলছে শীতের তীব্রতা। বাতাসের সাথে যেন ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়ছে। কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস জুড়েও শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) এখানে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১২ ডিগ্রীতে। শীতে কাঁপছে শিক্ষার্থীরা। তারপরেও শীতকে উপেক্ষা করে চলছে বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস, পরীক্ষা এবং ভাইভা।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু করে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনেক বিভাগে চলছে ভাইভা। সারা দিন এই তীব্র শীতের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাঁপছে শিক্ষার্থীরা।
পরীক্ষার কক্ষে এ শীতের তীব্রতা আরও একটু বেশিই। প্রচণ্ড ঠান্ডা কাঁপা-কাঁপা হাতে পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। কনকনে ঠান্ডায় রাত জেগে পরীক্ষার পড়াশুনা করতেও রীতিমত বেগ পেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। কষ্ট হলেও কিছু করার নেই। পরীক্ষা দিতেই হবে। পরীক্ষা শেষে পাড়ি জমাতে হবে মায়ের কোলে। তাইতো শীত উপেক্ষা করেও পরীক্ষা দিচ্ছে এরা।
এদিকে কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে সূর্য। সারা দিন সূর্যের দেখা নেই। শীতের প্রকোপে দেখা যাচ্ছে আবাসিক হলসমূহের সামনে শিক্ষার্থীরা আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে। অনেক সময় দেখা যায়, হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা হলের ছাদে আগুন জ্বালিয়ে আড্ডা দিয়ে পার করছে রাতের পর রাত। আড্ডার ফাঁকে চলছে গান। দিনের বেলায় এক চিলটি রোদ উঠলেই দেখা যায় কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে জমে উঠে শিক্ষার্থীদের মাঝে আড্ডা, গান, খুনসুটি। রোদ উঠলেই সবার মাঝে আনন্দ বয়ে যায়।
শীতের তীব্রতা প্রভাব ফেলেছে বিভিন্ন অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপরও। অনেককে শীতে জড়সড় হয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসন ভবন ঘুরে এ দৃশ্য লক্ষ করা গেছে। চায়ের দোকানে জমছে আড্ডা। এই শীতে রং চায়ের বিকল্প হতেই পারে না। তাই চায়ের দোকানে চায়ের কাপে চুমুকেই চলছে আড্ডা।
উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সামি-আল-সাদ আওন জানান, শীতের মধ্যে ভাইভা দিতে হবে জেনে কষ্ট পেয়েছি। তীব্র শীতের সকালে গোসল করে ভাইভার জন্য প্রস্তুতি নেয়া কষ্টকর। কিন্তু এ ভেবে ভালো লাগছে পরীক্ষা, ভাইভা সব শেষ। এখন বাড়ি যেতে পারব।
আইন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের মাহবুব রায়হান জানান, এই শীত উপেক্ষা করে পরীক্ষা দেয়া সত্যিই কষ্টকর। পরীক্ষার শুরুতে মনে হচ্ছিলো হাত যেন অচল হয়ে পড়ছে।
লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
ইবি/হাকিম মাহি
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2sRdyGl
0 comments:
Post a Comment