
ফেনীই তাদের দুবাই শহর
সৌরভ পাটোয়ারীফেনী শহরের জিরো পয়েন্টের কাছে খেজুর চত্বর ও দোয়েল চত্বর। স্থানীয়ভাবে বদলার হাট নামে পরিচিত এই শ্রমবাজারে জড়ো হয়েছেন সহস্রাধিক শ্রমজীবী মানুষ। প্রত্যেকের হাতে কোদাল, বাঁশের ঝাকাসহ নানা হাতিয়ার। সবার লক্ষ্য একটাই- কাজ যোগার করা। অনেকের কাজের সন্ধানও মেলে এখানে। ফেনীই তাদের কাছে দুবাই শহর।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টার দিকে ফেনী শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের উত্তর পাশে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। শ্রমিক বেচাকেনা চলে সকাল ৯টা পর্যন্ত।
তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে চলছে ফেনীর এই শ্রমবাজার। রংপুর, কুড়িগ্রাম, বরিশাল, লক্ষীপুর, নেত্রকোনা, খুলনা, বাগেরহাট, সিলেট, ময়মনসিংসহ নানা জেলার শ্রমজীবী মানুষ আসেন এ হাটে। কাক ডাকা ভোরে রাজমিস্ত্রী, কাঠমিস্ত্রী, রং মিস্ত্রী ও দিনমজুরসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ আসেন বদলার হাটে। হাটে আসা অনেকে বিক্রি হলেও কিছু থেকে যান অবিক্রিত। দরদাম শেষে যারা বিক্রি হন তারা মালিকের সঙ্গে যান কাজ করতে।
সারা দিন ঘাম ঝরানো কঠোর পরিশ্রম শেষে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন পরিশ্রমী মানুষগুলো। আবার পরের দিন ভোরবেলায় হাটের আসেন তারা। এভাবেই চলে খেটে খাওয়া মানুষদের জীবন।
অনেক বাংলাদেশি কাজের সন্ধানে দেশের বাইরে যান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে কাজ করেন অনেক বাংলাদেশি। তবে সেখানে যেতে বেশ টাকা খরচ হয়। যারা দিনমজুর, তাদের তো দুবাই যাওয়ার মতো টাকা নেই। তাই ফেনীকেই তারা দুবাই শহর মনে করেন, এখানে আসেন শ্রম বেচতে। আর এখানে নিয়মিত হাট বসলেও নেই খাজনা বা অন্য কোনো খরচ।
শীত উপেক্ষা করে হাটে আসা দিনমজুর নুরুল ইসলাম জানান, তিনি আগে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। এখন চাকরি না থাকায় বাধ্য হয়ে বদলার হাটে এসেছেন। মাঝে মাঝে কাজ পেলেও বেশিরভাগ সময় অবিক্রিত থেকে যান তিনি।
মফিজুল ইসলাম খান (৫৫) জানান, ১০ বছর ধরে তিনি এ হাটে আসেন। সারা দিনের জন্য নিজেকে ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করেন যেকোনো কাজের জন্য। কাজ পেলে মুখে হাসি ফোটে, না পেলে মলিন মুখে অপেক্ষা করতে হয় পরবর্তী দিনের জন্য। ফেনীর মানুষ ভালো। পেট ভরে খাবার দেন। কাজ শেষে বকশিশও দেন।
হাটে শ্রমিক নিতে আসা মো. হানিফ জানান, এখানে আসা শ্রমিকরা খুব ভালো। ফেনী ওদের কাছে দুবাই শহর বলে পরিচিত।
ফেনী/সৌরভ/রফিক
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/37icSbi
0 comments:
Post a Comment