
আজ জিতলেই বাংলাদেশের ইতিহাস
ক্রীড়া ডেস্কনিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ যখন প্রথমবারের মতো ফাইনালের টিকিট পেল, তখন যুব বিশ্বকাপ গেল এশিয়া কাপ। কারণ, অপর ফাইনালিস্ট যে ভারত। যারা রেকর্ড চারবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে।
আজ রোববার দুপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার পফেচট্রুমে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-ভারত। যেখানে ভারতের সামনে রেকর্ড পঞ্চম শিরোপা জয়ের হাতছানি। আর বাংলাদেশের সামনে ইতিহাস গড়ার। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি টাইগার যুবাদের সামনে। তবে শিরোপা যে-ই জিতুক, জয়টা হবে এশিয়ার ক্রিকেটের। ঝাণ্ডা উড়বে এশিয়ার।
এবারের যুব বিশ্বকাপে অবশ্য বাংলাদেশ-ভারত দুটি দলই অপরাজিত। তবে আজ একটি দলকে হার মানতেই হবে। বিজয়ী দল হবে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন। ম্যাচটি যেহেতু ফাইনাল, সেহেতু উত্তেজনার পারদও থাকতে আকাশচুম্বী। আর লড়াইটাও হবে হাড্ডাহাড্ডি।
ফাইনালে ভারতের যদি কার্তিক তেয়াগি কিংবা শুশান্ত মিশ্রার সর্পিল পেস আক্রমণের দোহাই থাকে, তাহলে সেটার কাউন্টার দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের রয়েছে তানজিম হাসান সাকিব ও শরিফুল ইসলাম। ভারতের মায়াবী স্পিনার রবী বিষ্ণু থাকলে বাংলাদেশের আছেন রকিবুল হাসান। আর ভারতের যশস্বী জয়সাওয়ালের মতো বাংলাদেশের আছেন তানজিদ হাসান কিংবা মাহমুদুল হাসান জয়।
তবে পেসারদের দুর্দান্ত একটি স্পের্শ কিংবা স্পিনারদের মায়াবী ঘূর্ণি বদলে দিতে পারে ফাইনালের ভাগ্য।
যদিও পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে ভারত বেশ এগিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে। তার উপর ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ফাইনাল জুজু তো রয়েছেই। নারী ক্রিকেটাররা ছাড়া বাংলাদেশের কোনো দলই ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল জিততে পারেনি। খুব কাছে গিয়েও হারের রেকর্ড আছে বেশ কয়েকটি।
যুব বিশ্বকাপ সবশেষ বাংলাদেশ-ভারত মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৮ সালে। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা হয়েছিল দল দুটির। যথারীতি ভারত হয়েছিল বিজয়ী। এ ছাড়া আরো সাতবার মুখোমুখি হয়েছে দল দুটি। তার মধ্যে দুটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। বাকি পাঁচটিতে ভারত ৪, বাংলাদেশ ১।
২০১৮ এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ মাত্র ২ রানের ব্যবধানে হেরেছিল। ২০১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালেও বাংলাদেশ হেরেছে ৫ রানে। সবশেষ গেল বছরের জুলাইতে ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তাই একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ফাইনাল অপেক্ষা করছে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য।
অবশ্য ফাইনাল হিসেবে চাপ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। যেমনটা বলেছেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব, ‘স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছি আমরা। কেউ চাপে নেই। কাউকে ভয় পাওয়ারও কিছু নেই। আর একটা ম্যাচ বাকি, যা জিততে চাই সবাই।’
তারপরও ম্যাচটি যখন ফাইনাল, তখন চাপ নিতে না চাইলেও চলে আসে চুপিসারে ভেতরে ভেতরে। এখন দেখার বিষয় চাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে বাংলাদেশকে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য সুখস্মৃতি এনে দিতে পারেন কিনা জয়-আকবর আলীরা।
ঢাকা/আমিনুল
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/37fkqeR
0 comments:
Post a Comment