
লিভারপুল নয়, এবার ঘুরে দাঁড়ালো অ্যাটলেটিকো
ক্রীড়া ডেস্কইউরোপিয়ান মঞ্চে ২৫ ম্যাচ ধরে ঘরের মাঠে অজেয় লিভারপুল। চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগের রাতটা তাদেরই হওয়ার কথা ছিল। ১-০ গোলে প্রথম লেগ হারলেও অ্যানফিল্ডে অতিরিক্ত সময়ের খেলায় ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। কিন্তু আরেকটি অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস লেখা হলো না অলরেডদের। অতিরিক্ত সময়ে তাদের জালে তিনবার বল পাঠিয়ে নাটকীয় জয় পেলো অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বদলি খেলোয়াড় মার্কোস লরেন্তে অতিরিক্ত সময়ে করেন জোড়া গোল। আলভারো মোরাতা তৃতীয় গোল স্কোরবোর্ডে যোগ করলে ডিয়েগো সিমিওনের দল অ্যানফিল্ডে পায় বিখ্যাত জয়ের দেখা। শুরুতে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ দল লিভারপুল বল দখলে ছিল অনেক এগিয়ে। সুযোগও তৈরি করেছিল সবচেয়ে বেশি। অ্যাটলেটিকো গোলকিপার জ্যান ওবলাকের দুর্দান্ত সব সেভ উচ্ছ্বাসে ভাসতে দেয়নি তাদের। তবে জর্জিনিয়ো উইনালডামের গোলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এরপর রবার্তো ফিরমিনো জাল কাঁপালে রাতটা উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু হঠাৎ করে ছন্দপতন। বার্সেলোনার বিপক্ষে গত মৌসুমে যে স্বাদটা পেয়েছিল লিভারপুল, সেটা এবার পেলো অ্যাটলেটিকো। ৩-২ গোলে দ্বিতীয় লেগ হেরে যায় অলরেডরা। দুই লেগে অ্যাটলেটিকোর অগ্রগামিতা ৪-২ গোলের।
শুরুতে সুযোগ তৈরি করেছিল ডিয়েগো কস্তা, সাবেক চেলসি ফরোয়ার্ডের শট জালের পাশে জড়ায়। এরপরই একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে লিভারপুল। তবে মূল ডিফেন্ডার স্টেফান সাভিচ ও ফেলিপের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। স্বাগতিকরা বিরতির ২ মিনিট পর এগিয়ে যায়। অ্যালেক্স অক্সলেড চেম্বারলেইনের ক্রস থেকে উইনালডামের শক্তিশালী হেড জালে জড়ায়।
পরে ওবলাক গোলপোস্ট শক্ত হাতে সামলান। স্লোভেনিয়ান গোলকিপার রুখে দেন মোহামেদ সালাহ, ফিরমিনো ও সাদিও মানের প্রচেষ্টা। অ্যান্ডি রবার্টসনের হেড আঘাত করে গোলবারে। যোগ করা সময়ে রেনান লোদির ক্রসে সাউল নিগুয়েজের হেড জালে জড়ালে অ্যাটলেটিকো ভেবেছিল তারা জিতে গেছে শেষ ষোলো। কিন্তু অফসাইডের বাঁশি বাজলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
লিভারপুল দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে যেতে সময় নিয়েছে চার মিনিট। গোলপোস্টে বল মেরেছিলেন ফিরমিনো, তবে ফিরতি শটে অ্যানফিল্ডের দর্শকদের উল্লাসে ভাসান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। কিন্তু ইয়ুর্গেন ক্লপের দলের জন্য দুঃসময় অপেক্ষা করছিল।
চোটে আক্রান্ত আলিসনের বদলে গোলকিপিংয়ে থাকা আদ্রিয়ান সরাসরি বল পাস দেন প্রতিপক্ষের জোয়াও ফেলিক্সকে। পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড বল বাড়ান লরেন্তেকে, বদলি খেলোয়াড়ের কোনাকুনি শট ঠেকাতে পারেননি স্প্যানিশ গোলকিপার।
মোরাতার সঙ্গে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে একইভাবে লরেন্তে ম্যাচের স্কোর করেন ২-২। তাতেই ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়ে যায় লিভারপুলের মাথা থেকে। গোলের জন্য মরিয়া অলরেডদের সব খেলোয়াড় সামনে ছিল, এই সুযোগে ঠাণ্ডা মাথায় অ্যাটলেটিকোর তৃতীয় গোল করেন মোরাতা।
ঢাকা/ফাহিম
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2Q6hDiH
0 comments:
Post a Comment