
অধিনায়কদের অধিনায়ক মাশরাফি
ইয়াসিনশুরু নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের হাত ধরে। এরপর খালেদ মাহমুদ, খালেদ মাসুদ পাইলট, হাবিবুল বাশার সুমন ও মোহাম্মদ আশরাফুলকে পাওয়া।
একটা সময় সেই দায়িত্ব আসে নিজের কাঁধে। ইনজুরির ছোবলে বেশিদিন থাকতে পারেননি সেই দায়িত্বে। এরপর খেলেছেন সাকিব ও মুশফিকের নেতৃত্বে। মুশফিকের থেকে ২০১৪ সালের নভেম্বরে ফের পান অধিনায়কত্ব। পরের যাত্রাটা সাফল্যমন্ডিত, সোনাখচিত।
দেশের একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে ৫০তম ওয়ানডে জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। নেতৃত্ব দেওয়া একমাত্র টেস্টেও আসে জয়। টি-টোয়েন্টিতেও সাফল্য ঈর্ষণীয়। তাইতো তার অধিনায়করা এবং বর্তমান সতীর্থরা প্রত্যেকেই বিশ্বাস করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা অধিনায়কদের অধিনায়ক।
শুধু বিজয়ের মালা পরাচ্ছেন না। মাশরাফির মাথায় তুলে দিয়েছেন সিংহাসনের মুকুট। বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ককে নিয়ে স্তুতি ঝরল প্রাক্তন অধিনায়কদের কণ্ঠে। তাদের কথা শুনেছে রাইজিংবিডি-
নাঈমুর রহমান দুর্জয়
মাশরাফি আমার চোখে বাংলাদেশের সেরা অধিনায়ক। যে লেভেলে ও বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে সেখানে পৌঁছার মূল কারিগর মাশরাফি। ওর রেকর্ড ওর হয়ে কথা বলে। অধিনায়ক দুই প্রকার। মাঠে একজন। মাঠের বাইরে একজন। মাশরাফি ইনফিল্ড ও আউটফিল্ড দুই জায়গাতেই অধিনায়ক। কাছ থেকে দেখেছি বলেই জানি। নেতৃত্বগুণ সবার মধ্যে থাকে না। ওর মধ্যে এটা অনেক বেশি ছিল। অধিনায়কের যে মূল কাজটা, অন্যদের কাছ থেকে সেরা পারফরম্যান্সটা বের করে নেওয়া, সেই ব্যাপারে সে সফল। পাশাপাশি সে অত্যন্ত ভালো মনের মানুষও।
খালেদ মাহমুদ সুজন
অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া, সব অধিনায়ক সেটা পারে না। সেই নেতৃত্ব মাশরাফি দিয়েছে। একটা দল যেমন-ই হোক ওই দলটাকে বিশ্বাস করানো যে আমি পারি কিংবা আমরা পারবো সেটা মাশরাফি করতে পারত। দলকে এক করে রাখার কাজ কিন্তু কঠিন। কিন্তু ওর দলটা ছিল পরিবার। আমি ম্যানেজার, কোচ থাকার সময় দেখেছি। আমার সব কাজ কমিয়ে দিত। মাশরাফি দারুণ একটা অুনপ্রেরণা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য। এত ইনজুরি থাকা সত্ত্বেও যেভাবে ও খেলেছে, দলের প্রয়োজনে চেষ্টা করেছে শতভাগ দিয়ে। খেলোয়াড় হিসেবে সাফল্য এনে দিয়েছে। আবার অধিনায়ক হিসেবেও এনে দিয়েছে। মাশরাফি অনেকদিন নেতৃত্ব দিল। তবে মাশরাফিকে সবাই মিস করবে। ও একজনই।
খালেদ মাসুদ পাইলট
বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আমরা যে জায়গায় রেখে এসেছি সেখান থেকে মাশরাফিরা অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আমাদের সঙ্গে খেলতে নামার আগে হয়তো ভাবত জিতে যাবে। কিন্তু মাশরাফির দলের বিপক্ষে খেলার আগে ছক কেটে পরিকল্পনা করত। এটা ওর অর্জন। ও প্রতিপক্ষদের ভাবাতে বাধ্য করেছে। অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। অসাধারণ একজন যোদ্ধা। ১৮ বছর বাংলাদেশকে সার্ভিস দেওয়া কম ব্যাপার না। মাঠের একজন সত্যিকারের নেতাকে মিস করব। তার নেতৃত্বে অনেক ভালো ভালো অর্জন এসেছে। মাশরাফির জীবন এখন দুটা। খেলোয়াড় মাশরাফি, এমপি মাশরাফি। মাঠের ভেতরে সৎ মাশরাফিকে দেখেছি। এমপি মাশরাফি আরও সৎ। এখন মাশরাফি পুরো দেশের। ক্রিকেটের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়াঙ্গনের হাল ধরতে পারে সে।
হাবিবুল বাশার
বাংলাদেশের হয়ে খেলাটাই তো বড় সম্মানের ব্যাপার। অধিনায়কত্ব তো অবশ্যই বড় সম্মান। সবচেয়ে বড় সম্মান যদি বলেন সে রকম। অনেক দিন থেকে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া সহজ কাজ না। কষ্ট বলব না। সবাই তো চায় দলকে নেতৃত্ব দিতে। মাশরাফি বাংলাদেশকে তার সেরাটা দিয়েছে। যেখানে দল ছিল সেখান থেকে তুলে অন্য আরেকটি জায়গা এনে দিয়েছে। এর কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের। কিন্তু একজন অধিনায়ক মাশরাফির কৃতিত্ব আরও বেশি। যখন একটা দলে অনেক তারকা থাকে, তখন সেই দলকে নেতৃত্ব দেওয়া সহজ না। তারকা থাকলে খেলাটা সহজ হয়ে যায়, কিন্তু তারকাদের নিয়ে একসঙ্গে খেলাটা কিন্তু কঠিন। মাশরাফি এই কাজটা খুব ভালো মতো করে এসেছিল এতদিন। অধিনায়ক মাশরাফি আমার দেখা সেরা অধিনায়ক।
মোহাম্মদ আশরাফুল
একজন ভালো বন্ধু। একজন ভালো রুমমেট। একজন ভালো মানুষ। একজন ভালো খেলোয়াড়। একজন ভালো অধিনায়ক। একজন যোদ্ধা। সব কিছু ওর মধ্যে আছে কিন্তু ওর যোদ্ধা ভাবটা আর কারো মধ্যে নেই। ও জানে ও কি পারবে ও কি পারবে না। যেটা পারবে না সেটা জান দিয়ে চেষ্টা করবে। এত বড় অধিনায়ক হবে এটা হয়তো কেউ শুরুতে চিন্তা করেনি। কিন্তু সবার ভাবনা পাল্টে দিয়ে বাংলাদেশের সেরা অধিনায়ক হয়েছে। নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশের সেরা অধিনায়ক সে। আমার কাছে এক নম্বর। অধিনায়ক তো আমিও ছিলাম। কিন্তু ওর মতো কেউ হতে পারবে না।
ঢাকা/ইয়াসিন/ফাহিম
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2xzx4te
0 comments:
Post a Comment