
নতুন স্কুলভবন পেয়ে পাহাড়ের শিশুরা আনন্দে ভাসছে
হবিগঞ্জ প্রতিনিধিনতুন বইয়ের মতো স্কুলের নতুন ভবনের আকর্ষণও কম নয়। স্কুলের নতুন ভবন পেয়ে আনন্দে ভাসছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পাহাড়ি এলাকা বালুমারা গ্রামের শিক্ষার্থীরা।
বালুমারা গ্রামে এখনো তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। চুনারুঘাট উপজেলা সদর হতে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রামটিতে পৌঁছতে পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হয় ৭ কিলোমিটার রাস্তা। সম্প্রতি গ্রামটিতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপন করা হলেও এখনো কোন বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ হয়নি।
রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণি অভয়ারণ্যের নিকটবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলের এ গ্রামের বাসিন্দা বলতে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর চা শ্রমিক, যাদের দিন কাটে চা বাগানে কাজ করে। প্রয়োজনীয় শিক্ষা না থাকায় তাদের সন্তান-সন্ততিরাও বংশানুক্রমে যুক্ত হয় চা শ্রমিকের পেশায়।
সবুজ পাহাড়ি এলাকার গ্রামটিতে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ১৯৮২ সালে প্রায় ৩৬ শতক জমির মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বালুমারা প্রাথমিক বিদ্যালয়। তৎকালীন সময় থেকেই বালুমারা চা বাগান, চানবাড়ি ও কাদিরপুর পাহাড়ি গ্রামের সন্তানদের জন্য এ বিদ্যালয়টি একমাত্র শিক্ষার বাতিঘর। বিদ্যালয়ে অবকাঠামো বলতে ছিল জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত তিন কক্ষের একটি ভবন। অনেকটা বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ভবনে চলতো পাঠদান কার্যক্রম।
২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। এরপর চুনারুঘাট-মাধবপুর সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোঃ মাহবুব আলী’র প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টির নতুন ভবন অনুমোদিত হয়।
দুর্গম পাহাড়ি কাঁচা রাস্তা, যেখানে পায়ে হেঁটে পৌঁছানোই দায়, সেখানে মালামাল পরিবহন, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং পর্যাপ্ত পানি ব্যবস্থা না থাকা এ অঞ্চলে ভবন নির্মাণে ছিল বড় বাধা। সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের চুনারুঘাট উপজেলা প্রকৌশলী'র কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ৫ কক্ষ বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
নতুন ভবন পেয়ে এখানের শিক্ষার্থীরা খুবই খুশি। শিক্ষকদের মনও ফুরফুরে। এতে করে ৪ জন শিক্ষক ও ১৭৬ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। শুরু হয়েছে গতিশীল পাঠদান কার্যক্রম।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মিশুক দত্ত বলেন, ‘দুর্গম পাহাড়ি এ অঞ্চলে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা সত্যিকার অর্থেই অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, যা উপজেলা শিক্ষা অফিস, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সম্পন্ন হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘আমার গ্রাম-আমার শহর’ বাস্তবায়নে সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে গ্রামীণ উন্নয়নে এলজিইডি সর্বদাই সচেষ্ট রয়েছে ।’
৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রসনজিৎ মুন্ডা, জয়ন্তি উড়াং, ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী বাসন্তি মুন্ডা, ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী শুভজিৎ মুন্ডাসহ সকল শিক্ষার্থী নতুন ভবন পেয়ে খুবই আনন্দিত বলে জানায়।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছাদেক মিয়া বলেন, ‘নতুন ভবনে লেখাপড়া করতে পেরে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। নলকূপ ও লেট্রিনের কিছুটা সমস্যা রয়েছে। কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর তারা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।’
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি রবীন্দ্র মুন্ডা বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব বলেই এ সবুজ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সুন্দর একটি স্কুলভবন নির্মাণ করে দিয়েছে।’
মামুন চৌধুরী/টিপু
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2PW639E
0 comments:
Post a Comment