
‘প্রেমিকা নয়, প্রেম পেয়েছি’
বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতাছোট্টবেলার এক্কাদোক্কা খেলতে খেলতে জীবনের বৃহৎ চক্রের অনেকটা পথই পার হয়ে গেছে। অদ্ভুত এক শিহরণ জেগেছে আজ মনের ঋতুর আবর্তনে।
প্রকৃতির অমোঘ নিয়মেই মনের আকাশটায় প্রেমের ঘনকালো মেঘের ঘনঘটা। আমি কাকে চাই, কে আমাকে চায়- এমন একটা দোটানা। প্রিয় হাসান স্যারের ছন্দে, ‘লক্ষ্য এক কিন্তু পক্ষ ভিন্ন’। যাকেই চাইব, সে যদি আরো দশজনের চাওয়া হয়, তবে কী হবে!
প্রিয় ক্যাম্পাসে মাত্র পা রেখেছি। অচেনা শহর, গম্ভীর মানুষ আর আলোর ঝলকানিতে হাজার হাজার ভালোবাসাদের চমকানি দেখে প্রথমেই হকচকিয়ে গিয়েছিলাম। যাপিত জীবনের এতদিন অবধি যা দেখে এসেছি, সব ধীরে ধীরে আনত হয়ে আসছে এই শহরের ক্যানভাসে।
আমার গ্রামাঞ্চলে দূরে হেঁটে যাওয়া ওই মেয়ের দিকে তাকানো অবধিই প্রেম মনে করতাম। যাইহোক, ‘যষ্মিন দেশে যদাচার ' বলে কথা। যান্ত্রিক শহরের প্রেমগুলো দেখলে বার বার হুমায়ুন আজাদের এই উক্তিটি মনে পড়ে যায়, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম প্রেম বলে কিছু নেই। মানুষ যখন প্রেমে পড়ে, তখন প্রতিটি প্রেমই প্রথম প্রেম।’
লিখছি আমার জীবনে প্রেমে পড়ার লুকানো গল্পটি। সংগত কারণেই নায়িকার নাম-পরিচয় লুকানো হলো। যে গল্পটি কখনো কাউকে বলা হয়ে ওঠেনি।
প্রিয়তমার সাথে প্রথম দেখা নাকি সারাজীবন মনে থাকে। তার মায়াবী ধূম্রজালের পড়ে এতটাই ব্যাকুল যে, প্রথম দেখার দিন-ক্ষণ-মুহূর্তগুলোও মনে নেই। টিএসসিতে প্রথম দেখার পরেই ‘শবনম’ পড়ে ফেলেছিলাম। কারণ সাহিত্য সমালোচক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, ‘বাঙালি তরুণ-তরুণীদের প্রেমে পড়ার পূর্বে অবশ্যই সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘শবনম’ উপন্যাসটি পড়ে নেওয়া উচিৎ। এমন শিক্ষণীয় প্রেমের উপন্যাস বিশ্ব সাহিত্যে আর একটিও নেই।’
দিনের পর দিন তাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতেই যেন সময় কেটে যায়। স্বপ্নে হয় ভালোবাসার মধুর আলাপন। মনের স্রোতশূন্য নদীটি যেন বহমানতার আকুলতায় প্রাণপণ চেষ্টা করছে। সে গান গায় সুরের দেবীর আরাধনার মতো সুর তুলে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামে তার মিহি কণ্ঠে গান শুনতে চলে যাই হরহামেশাই।
এভাবেই চলতে থাকে প্রেমের সুধা না পাওয়া দিনগুলোর ছুটন্ত মহড়া। আর প্রেম আমি পাবই না কেমনে! আমি যে তার হৃদয়ে প্রেমের রানার আজও পৌঁছাতে পারিনি। আমি যে তর হৃদয়পটে আঁকতে পারিনি শত রঙের প্রেমময় জলছবি। শেষমেশ তার কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলাম আমার প্রেমের কাঙ্ক্ষিত বার্তাটুকু। এর পরের কাহিনীটা আপাতদৃষ্টিতে যতটাই নীরবে অশ্রুপাত করিয়েছিল, তার চেয়ে বেশি আজ আনন্দ দিচ্ছে। মেয়েটি আমার প্রেম নিবেদনে ‘না’ করে দিয়েছিল। আমি বিমর্ষ হয়েছিলাম। সে কি আমাকে সত্যিই ছেড়ে গিয়েছিল?
সে আমাকে ছেড়ে যায়নি। আমার খেয়াল রেখেছে, আমায় সঙ্গ দিয়েছে। আমার আবেগ-ভালোবাসার কথাগুলো মন দিয়ে শুনছে, কিন্তু বন্ধু হয়ে। যে শূন্যপুরে আমি নিপতিত হতে যাচ্ছিলাম, সেখান থেকে হেঁচকা টান মেরে প্রেমের ডাঙ্গায় তুলে এনেছে। তার সাথেই হয় সবচেয়ে বেশি পথচলা, তার সাথেই হয় সবচেয়ে বেশি ভাব বিনিমিয়।
সে বই উপহার দিলে বইয়ের ঘ্রাণে আমি প্রেম খুঁজে পাই, সে শাসন করলে আমি প্রেম খুঁজে পাই। চারদিকে প্রেম আর প্রেম। তাই বলব, আমি প্রেমিকা নয়, প্রেম খুঁজে পেয়েছি। আমরা শুধুই প্রেমিকা খুঁজে বেড়াই, প্রেম নয়। আসলেই জীবনে কী প্রেমিকার দরকার, নাকি প্রেম?
লেখক: শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ঢাবি/হাকিম মাহি
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2wXjYFP
0 comments:
Post a Comment