
আত্মঘাতী তারা
বিনোদন ডেস্ক‘মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে’— কবির মতো বেশিরভাগ মানুষই এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে যেতে চান না। কিন্তু কিছু মানুষের কাছে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করাই বেশি সহজ মনে হয়। এজন্য তারা বেছে নেন আত্মহত্যার পথ।
সম্প্রতি নিজ ফ্ল্যাটে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত। ছয় মাস ধরে বিষণ্নতায় ভুগছিলেন তিনি। ‘পবিত্র রিশতা’ টিভি ধারাবাহিকের মাধ্যমে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সুশান্ত। এরপর বলিউড সিনেমাতেও নিজের অভিনয় গুণে দর্শক হৃদয় জয় করেছেন। তার মৃত্যুতে শোকাহত তার ভক্ত অনুরাগীরা।
কিন্তু সুশান্তের আগেও ভারতীয় শোবিজের অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এ রকম কয়েকজনকে নিয়ে এই প্রতিবেদন।
প্রেক্ষা মেহতা: ‘ক্রাইম পেট্রোল’খ্যাত অভিনেত্রী প্রেক্ষা মেহতা। গত ২৬ মে ইন্দোরে নিজের বাড়িতে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। মৃত্যুর আগে একটি সুইসাইড নোট লিখে গেছেন এই অভিনেত্রী। এতে বিষণ্নতা, অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশা ও ব্যর্থ প্রেমের সম্পর্কের বিষয় উল্লেখ করেছেন তিনি।
কুশল পাঞ্জাবি: অভিনেতা কুশল পাঞ্জাবি। টিভি ধারাবাহিকের পাশাপাশি বলিউড সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন। ২০১৯ সালে ২৬ ডিসেম্বর মুম্বাইয়ের পালি হিলে অবস্থিত তার বাড়ি থেকে এই অভিনেতার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি বিষণ্নতায় ভুগছিলেন বলে জানা যায়। মৃত্যুর আগে সুইসাইড নোট লিখে গিয়েছিলেন তিনি। মডেল ও ড্যান্সার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন কুশল। ‘লক্ষ্য’, ‘কাল’, ‘সালাম-ই-ইশক’, ‘ধান ধানা ধান গোল’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ২০১১ সালে ‘জোর কা ঝাটকা: টোটাল ওয়াইপআউট’ রিয়েলিটি শোয়ের বিজয়ী ছিলেন তিনি।
প্রত্যুষা ব্যানার্জি: জনপ্রিয় টিভি ধারাবাহিক ‘বালিকা বধূ’খ্যাত অভিনেত্রী প্রত্যুষা ব্যানার্জি। ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল মুম্বাইয়ে তার অ্যাপার্টমেন্টে এই অভিনেত্রীর লাশ পাওয়া যায়। ‘বালিকা বধূ’ ছাড়াও ‘হাম হ্যায় না’, ‘সসুরাল সিমার কা’ এবং ‘গুলমহর গ্র্যান্ড’ টিভি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘বিস বস ৭’-এ প্রতিযোগীও ছিলেন।
রাঙ্গানাথ: তেলেগু অভিনেতা রাঙ্গানাথ। চল্লিশ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৩০০-এর বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তেলেগু সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সফল অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর হায়দরাবাদে নিজের বাড়িতে তিনি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
জিয়া খান: বলিউডের অন্যতম রহস্যঘেরা ঘটনার একটি অভিনেত্রী জিয়া খানের মৃত্যু। ২০১৩ সালের ৩ জুন জুহুর ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ২৫ বছর বয়সি জিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানায় আত্মহত্যা করেছেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু জিয়ার মা দাবি করেন, আত্মহত্যা নয়, তার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। এরপর এ নিয়ে অনেকে জল ঘোলা হয়েছে। তদন্তের ভার বর্তায় সিবিআই-এর হাতে। তবে এই অভিনেত্রীর মৃত্যু রহস্যের জট এখনো খোলেনি।
উদয় কিরণ: তেলেগু অভিনেতা উদয় কিরণ। ২০০১ সালে ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতার পুরষ্কার জেতেন। তিনিই একমাত্র তেলেগু অভিনেতা, যার প্রথম চারটি সিনেমা সকল আঞ্চলিক ভাষায় রিমেড হয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একটি গাছের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর আগে প্রায় এক বছর অর্থকষ্টে ও বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন তিনি।
নাফিজা জোসেফ: মডেল নাফিজা জোসেফ। ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে গৌতম খান্দুজা নামের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। তাদের বিয়েও পাকাপাকি হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নাফিজা জানতে পারেন গৌতম আগে থেকেই বিবাহিত। এরপর তাদের বিয়ে ভেঙে যায়। কিন্তু বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি এই মডেল। ধারণা করা হয়, এই কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেন।
ময়ূরী: ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা ময়ূরী। তামিল, মালায়ালাম, কন্নড় ভাষায় সিনেমায় অভিনয় করেছেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি। ২০০৫ সালের ১৬ জুন চেন্নাইয়ে আত্মহত্যা করেন এই অভিনেত্রী।
সিল্ক স্মিথা: ভারতের দক্ষিণী সিনেমায় অভিনেত্রী সিল্ক স্মিথা। দর্শকের কাছে তিনি ছিলেন ‘সেক্স সিম্বল’। তার জীবনের গল্প নিয়েই তৈরি হয় বলিউড সিনেম ‘ডার্টি পিকচার’। এতে সিল্ক স্মিথার চরিত্রে অভিনয় করেন বিদ্যা বালান। ১৯৯৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর চেন্নাইয়ের সালিগ্রামামে নিজ বাড়ি থেকে সিল্ক স্মিথার লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর আগে একটি সুইসাইড নোট লিখে গিয়েছিলেন তিনি। জীবনে একের পর এক ব্যর্থতা এবং হতাশার কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে সুইসাইড নোটে উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।
দিব্যা ভারতী: বলিউড অভিনেত্রী দিব্যা ভারতী। রুপালি জগতে পা রেখে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। ‘বিশ্বাত্মা’, ‘দিওয়ানা’, ‘বলবান’, ‘শোলা অউর শবনম’ প্রভৃতি সিনেমায় অভিনয় করেন। দুই বছরের মধ্যে তার বারোটি সিনেমা মুক্তি পায়, সেগুলোর বেশির ভাগই ছিল সুপারহিট। কিন্তু মাত্র ১৯ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে চলে যান এই অভিনেত্রী। ১৯৯৩ সালে ৫ সেপ্টেম্বর বাড়ির ব্যালকুনি থেকে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা— তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো অজানা।
বিবেকা বাবাজি: কামাসূত্রা কনডমের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঝড় তুলেছিলেন মডেল-অভিনেত্রী বিবেকা বাবাজি। ২০০৫ সালে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। ক্যারিয়ারে ব্যর্থতার কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়। এছাড়া অর্থনৈতিক দৈন্যদশাও একটি কারণ ছিল।
গুরুদত্ত: নাম ছিল বসন্ত কুমার শিবশংকর পাড়ুকোন। তবে তিনি গুরু দত্ত নামেই পরিচিত ছিলেন। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতাদের একজন ছিলেন তিনি। ‘পিয়াসা’, ‘কাগজকে ফুল’, ‘সাহেব বিবি অউর গুলাম’ প্রভৃতি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সিএনএন-এর জরিপে এশিয়ার সেরা ২৫ জন অভিনেতার মধ্যে একজন ছিলেন তিনি। মুম্বাইয়ের পেডার রোডের বাড়িতে তার লাশ পাওয়া যায়। মদের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খেয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। তবে আত্মহত্যা নাকি ওভারডোজে তার মৃত্যু হয়েছে তা নিয়ে রহস্য রয়েই গেছে। যদিও আগেও দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
ঢাকা/মারুফ
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/3hE9eix
0 comments:
Post a Comment