
শৈশবে খেলার সাথী বাবা
চৈতি দাস‘নিজের ইচ্ছা লুকিয়ে রেখে সংসার যে সামলান, হাজার ক্ষতেও অক্ষত থেকে আবদার সে মেটান।’ তিনি আর কেউ নন, তিনি আমার বাবা। নিজের সব ইচ্ছে লুকিয়ে রেখে পরিবারের সবার মুখে হাসি ফুটানো তার কাজ।
ছোট থেকেই বাবার প্রতি আমার ভালোবাসাটা একটু বেশি। বাবা-মায়ের বড় সন্তান হওয়ার কারণে বাবারও আমার প্রতি ভালোবাসাটা একটু বেশি। ছোটবেলায় খেলার সাথী বলতে বাবাই। বাবার সাথে খেলা করা, গল্প করা ছিল নিত্য দিনের অভ্যাস।
ছোটবেলায় যখন কোনো খেলনার জন্য বায়না করতাম, কোনো কারণে বাবা যদি কিনে না দিত, তখন বাসায় এসে আমার মন খারাপ দেখলে, পরের দিন বাবা গিয়ে সেই খেলনাটাই কিনে দিত। শুধু ছোটবেলায় না, এখনো কোনো কিছুর জন্য বায়না করলে প্রথমে বাবা এনে না দিলেও পরে সেই জিনিসটাই এনে দেবে। বাবার এই হলো একটা বদ অভ্যাস! প্রথমেই সব কিছুতে না বলা এবং পরে সেই ব্যাপারেই হ্যাঁ বলা।
বাবা সারাদিন অফিসে থাকে। সকাল ৮টায় বের হয়, সন্ধ্যা ৭টায় ফেরে। পড়াশোনা আর টিউশনের জন্য বাবার সাথে কথাও বলার সময় থাকে না। আগে বাবার সাথে সন্ধ্যার পর খুব গল্প করা হতো। গল্প করার মাঝে বাবা যে কখন স্কুলের হোমওয়ার্কটা শেষ করিয়ে দিতেন টেরই পেতাম না।
আগে ছুটির দিনে পরিবারের সবাই মিলে ঘুরতে যাওয়া হতো। এখন সময়ের সাথে সাথে বাবার সাথে তেমন গল্প করা হয় না, ছুটির দিনে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না, সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকে। তারপরেও যেদিন আমি রাত জেগে পড়ি, বাবা আমার পাশে বসে থাকে। আমি যখন ঘুমাব, বাবাও ঠিক তখন ঘুমাবে। আবার সকালে বাবাই অফিস যাওয়ার আগে আমার ঘুম ভাঙিয়ে দেয়।
কলেজে ঠিকমতো পৌঁছালাম কি না? তা জানার জন্য মায়ের আগে বাবাই ফোন করে খোঁজ নেয়। আবার ঠিকমতো বাসায় ফিরলাম কি না? তা জানার জন্যও বাবা শত ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও ফোন করে খোঁজ নেয়। সত্যি বলতে বাবা আমার যতটা যত্ন নেয়, আমি ঠিক ততটুকুও বাবাকে যত্ন করতে পারি না।
পূজো আসলে বাবা সবার পছন্দমতো ড্রেস কিনে দেন। কিন্তু নিজের জন্য কখনো নেন, আবার কখনো নেন না। তারপরেও কখনো মুখ ফুটে এসব কাউকে বলেননি। পৃথিবীর সব বাবাই বোধহয় এমন হয়। সবার মুখে হাসিটা দেখার জন্য নিজের পছন্দটাকে লুকিয়ে রাখেন সবসময়।
পরিবারের সবার আবদার মেটানোর জন্য করোনার এই সময়গুলোতেও নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সারাদিন অফিস করছেন বাবা। নিজের কথা ভাবার কোনো সময়ই নেই তার। সারাক্ষণ পরিবারের কথা ভেবে যান। তারপরেও এই মানুষটাকে কখনো বলা হয়নি ‘ভীষণ ভালোবাসি বাবা’।
যে মানুষটা সারাদিন অফিস করেও আমাদের এত খেয়াল রাখেন, এত যত্ন করেন, এত ভালোবাসেন, শত ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের আগলে রাখেন, সে মানুষটার কোনো তুলনাই হয় না।
লেখক: শিক্ষার্থী, কবি নজরুল সরকারি কলেজ।
ঢাকা/হাকিম মাহি
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/30WSey6
0 comments:
Post a Comment