One can get information of Technology, Online income info, Health, Entertainment, Cooking & Recipe, Bye & Sale, Sports, Education, Exclusive news and many more in single bundle. ভান্ডার 24 থেকে আপনি পাচ্ছেন টেকনোলজি ইনফরমেশন, অনলাইনে ইনকাম ইনফরমেশন, হেলথ, এন্টারটেইনমেন্ট, কুকিং & রেসিপি, কেনা বেচা, স্পোর্টস, এডুকেশন, এক্সক্লুসিভ নিউজ ও আরো অনেক কিছু |

Tuesday, November 12, 2019

প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে এক শিশুর মৃত্যু নিউমোনিয়ায়

প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে এক শিশুর মৃত্যু নিউমোনিয়ায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন একটি বিশ্লেষণ অনুসারে, গত বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী আট লাখেরও বেশি শিশু নিউমোনিয়ায় মারা গেছে, অর্থাৎ প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে মৃত্যু হয় একটি শিশুর। এমন তথ্য জানিয়েছে ইউনিসেফ।

দুই বছরের কম বয়সী যত শিশু মারা গেছে তাদের বেশিরভাগই জীবনের প্রথম মাসেই মৃত্যুবরণ করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিসেফ জানায়, ছড়িয়ে পড়া এই মহামারী সম্পর্কে সতর্ক করে স্বাস্থ্য ও শিশু বিষয়ক ছয়টি শীর্ষস্থানীয় সংস্থা বৈশ্বিক পদক্ষেপের জন্য বুধবার আবেদন শুরু করছে।

এই গ্রুপটি আগামী জানুয়ারিতে স্পেনে শৈশবকালীন নিউমোনিয়ার বৈশ্বিক ফোরাম-এ বিশ্ব নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, ‘নিরাময়যোগ্য এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিউমোনিয়াতে প্রতিদিন পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২২শ' শিশু মারা যায়। এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য জোরালো বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি এবং বাড়তি বিনিয়োগ জরুরি। ’

ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের কারণে নিউমোনিয়া হয় এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ফুসফুস পুঁজ ও তরলে ভরে ওঠায় তাদের শ্বাস নেওয়ার জন্য রীতিমতো লড়াই করতে হয়।

২০১৮ সালে অন্য যে কোনো রোগের তুলনায় এই রোগে অনেক বেশি সংখ্যক পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়। ওই বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪ লাখ ৩৭ হাজার শিশু ডায়রিয়ার এবং ২ লাখ ৭২ হাজার শিশু ম্যালেরিয়ায় মারা যায়।

সেভ দ্যা চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী কেভিন ওয়াটকিনস বলেন, ‘এটি একটি বিসৃত বৈশ্বিক স্বাস্থ্য মহামারী, যা মোকাবেলায় বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। টিকা, সাশ্রয়ী অ্যান্টিবায়োটিক ও নিয়মিত অক্সিজেন-চিকিৎসার অভাবে লাখ শিশু মারা যাচ্ছে। নিউমোনিয়া সংকট হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অবহেলা ও অসমর্থনীয় বৈষম্যের লক্ষণ।‘

নিউমোনিয়ায় মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি শিশুর মৃত্যুর জন্য পাঁচটি দেশ দায়ী। দেশগুলো হলো, নাইজেরিয়া (১ লাখ ৬২ হাজার), ভারত (১ লাখ ২৭ হাজার), পাকিস্তান (৫৮ হাজার), গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (৪০ হাজার) ও ইথিওপিয়া (৩২ হাজার)।

এইচআইভির মতো অন্যান্য সংক্রমণ বা অপুষ্টির কারণে যেসব শিশুর রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং যেসব শিশু উচ্চমাত্রার বায়ু দূষণ ও অনিরাপদ পানির এলাকায় বসবাস করে তারা অনেক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

এই রোগটি টিকা দিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং সঠিকভাবে নির্ণয় করা গেলে স্বল্প ব্যয়ের অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সহজেই চিকিৎসা করা যায়।

কিন্তু কোটি শিশুকে এখনও টিকা দেওয়া হচ্ছে না – এবং প্রতি তিনটি শিশুর একটির মধ্যে লক্ষণগুলো উপস্থিত থাকলেও তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পায় না।

মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে অক্সিজেন-চিকিৎসারও প্রয়োজন হতে পারে, যা দরিদ্রতম দেশগুলোতে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও খুব কম ক্ষেত্রেই পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে ২০১৮ সালে পাঁচ বছরের কমবয়সী ১২ হাজারেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয় নিউমোনিয়ায়। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় একজনের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করা শিশুদের ১৩ শতাংশেরই মৃত্যু হয় নিউমোনিয়ায়।

২০১৯ সালে পাঁচ বছরের কমবয়সীদের মৃত্যুহার প্রতি হাজার জীবিত জন্মগ্রহণ করা শিশুর মধ্যে ৪০। বৈষম্য, দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির অভাবে ২০১৯ সালে দরিদ্রতম পরিবারগুলোতে যেখানে প্রতি হাজার জীবিত জন্মগ্রহণ করা শিশুর মধ্যে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়, সেখানে ধনীতম পরিবারগুলোতে প্রতি হাজার জীবিত জন্মগ্রহণকারী শিশুর মধ্যে মৃত্যু হয় মাত্র ২৮ জনের।

যদিও বাংলাদেশে এক বছর বয়সী শিশুদের ৯৭ শতাংশেরও বেশি পিভিসি৩ (PVC3), ডিটিপি৩ ( DTP3) ও এইআইবি৩ (Hib3)-এর আওতাভুক্ত, তারপরও দেশটি ২০১৬ সালে তার জনগণের প্রত্যেকের স্বাস্থ্যসেবার পেছনে মাত্র ছয় ডলার করে খরচ করে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত সর্বনিম্ন সীমা ৮৬ ডলারের চেয়ে অনেক কম।

ভ্যাক্সিন অ্যালায়েন্স জিএভিআই-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সেথ বার্কলে বলেন, ‘এই প্রতিরোধযোগ্য, নিরাময়যোগ্য এবং সহজ-নির্ণয় সক্ষম রোগটিই যে এখনও বিশ্বে ছোট শিশুদের সবচেয়ে বড় ঘাতক হিসেবে রয়ে গেছে, সেটা সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা গত দশকে দারুণ অগ্রগতি অর্জন করেছি। জিএভিআই’র সহায়তায় স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে নিউমোকোকাল টিকার আওতা এখন বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি, তবে প্রতিটি শিশু যাতে জীবনদানকারী এই টিকা গ্রহণের সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করার জন্য এখনও আমাদের অনেক কাজ বাকি।’

নিউমোনিয়া মোকাবেলা করার জন্য যে তহবিল পাওয়া গেছে তা অন্যান্য রোগের তুলনায় অনেক কম। যদিও বর্তমানে বিশ্বে মৃত্যুবরণ করা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ১৫ শতাংশই নিউমোনিয়ায় মারা যায়, তা সত্ত্বেও বৈশ্বিকভাবে সংক্রমণজনিত রোগ নিয়ে গবেষণা ব্যয়ের মাত্র ৩ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয় নিউমোনিয়া গবেষণার জন্য।

এভরি ব্রেথ কাউন্টসের সমন্বয়ক লিথ গ্রিনস্লেড বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে শিশুদের শীর্ষস্থানীয় ঘাতক হচ্ছে এই উপেক্ষিত রোগ এবং বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা শিশুরা এর মাশুল দিয়েছে। নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার এবং এই শিশুদের বাঁচানোর জন্য সরকার, জাতিসংঘ ও বহুপক্ষীয় সংস্থা, প্রতিষ্ঠান এবং এনজিওগুলোর সম্মিলিতভাবে কাজ করার সময় এসেছে।’

এই সংস্থাগুলো যৌথভাবে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সরকারের প্রতি, যাতে তারা নিউমোনিয়াজনিত শিশুমৃত্যু কমাতে নিয়ন্ত্রণ কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে; এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবার জন্য একটি বিস্তৃত কৌশলের অংশ হিসেবে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির সুবিধা উন্নত করে; ধনী দেশসমূহ, আন্তর্জাতিক দাতা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি, যাতে তারা গুরুত্বপূর্ণ টিকাগুলোর ব্যয় কমিয়ে এবং ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স জিএভিআই-এর ঘাটতি সফলতার সঙ্গে পূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে টিকাদানের পরিধি বাড়ায়; এবং নিউমোনিয়া মোকাবেলায় গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য তহবিল বাড়ায়।

 

ঢাকা/সাওন/বুলাকী



from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2XdNyjA
Share:

0 comments:

Post a Comment

Popular Posts

Recent Posts

Unordered List

Text Widget

Pages

Blog Archive

3i Template IT Solutions. Powered by Blogger.

Text Widget

Copyright © ভান্ডার 24 | Powered by 3i Template IT Solutions