
পিয়ারুলের তালগাছ!
কাঞ্চন কুমারপিয়ারুল ইসলাম। স্ত্রী আর দুই ছেলেকে নিয়ে তার পরিবার। নিজের দুই বিঘা জমিতে চাষাবাদ এবং বাড়িভাড়ার টাকা তার একমাত্র আয়ের উৎস। এ দিয়েই চলে সংসার।
বিভিন্ন লোকের বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি আগ্রহ থাকে। পিয়ারুল ইসলামের আগ্রহ তালগাছ লাগানোর প্রতি। দেশের স্বার্থে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তালগাছ লাগানোর ইচ্ছা তার।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার কলেজ পাড়ার মৃত আলাউদ্দিন মালিথার ছেলে পিয়ারুল ইসলাম মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বীজ সংগ্রহ করেন। গ্রামের রাস্তার পাশে, খালের ধারে, এমনকি রেল লাইনের ধারে তালগাছ রোপণ করেন তিনি।
দেশে বজ্রপাত বেড়েছে। এ থেকে মানুষকে বাঁচাতে পিয়ারুল ইসলাম বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে তালের বীজ রোপণ করেন। এ কাজে এলাকার মানুষেরও সহযোগিতা পান পিয়ারুল। সম্প্রতি স্থানীয় এক কৃষকের সহযোগিতায় ভেড়ামারা-রায়টা সড়কে প্রায় সাড়ে ৫০০ তালের বীজ রোপণ করেছেন পিয়ারুল।
পিয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় দুই বছর ধরে তালের বীজ রোপণ করছি। গত বছর প্রায় ১ হাজার তালের বীজ সংগ্রহ করে নিজেই রোপণ করেছি। এ বছর ২ হাজার বীজ রোপণ করার ইচ্ছা আছে। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১ হাজার ৪০০ তালবীজ রোপণ করেছি। তালের বীজ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তার পাশে, খালের ধারে, রেল লাইনের পাশে রোপণ করে থাকি।’
তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চেষ্টা করি মাঠের মধ্যে রোপণ করতে। কারণ, ফাঁকা মাঠে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকে। এতে অনেক প্রাণহানিও ঘটে।’
পিয়ারুল আরো বলেন, ‘আমার ইচ্ছা, যতদিন বেঁচে আছি, দেশের স্বার্থে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বৃক্ষরোপণ করব। এ কাজে কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা চাই না। এসব গাছ বড় হলে আমার কোনো দাবি থাকবে না। ’
ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র শামিমুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষক পিয়ারুল ইসলামের তালবীজ রোপণ নিঃসন্দেহে মহৎ কাজ। তিনি আমাদের এলাকাতেও তালের বীজ রোপণ করেছেন। এটি বেড়ে উঠলে একদিকে যেমন পরিবেশের উপকার হবে, অন্যদিকে বজ্রপাত রোধে কাজে লাগবে।’
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ বলেন, ‘আমাদের বজ্রনিরোধক যে যন্ত্র ছিল সেটি উঠিয়ে নেয়ায় বজ্রপাত বেড়েছে। বজ্রপাত থেকে বাঁচতে তালগাছের বিশেষ প্রয়োজন। তাই বেশি করে তালবীজ রোপণ করতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’
কুষ্টিয়া/কাঞ্চন কুমার/রফিক
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2Ri1jNe
0 comments:
Post a Comment