
ইজিবাইকের বিকল্প হতে পারে সৌরশক্তি চালিত গাড়ি
সজীবুর রহমানসৌরশক্তির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। এই সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তৈরি করেছেন, ‘সৌরশক্তি চালিত গাড়ি’।
সূর্যের শক্তির সাহায্যে চলবে তিন চাকার এই ভিন্নধর্মী গাড়ি। গাড়িটি তৈরির উদ্যোক্তা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির।
সৌরশক্তি ব্যবহার করে গাড়ি চালানোর আইডিয়া সম্পর্কে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌরশক্তি দিয়ে ফ্যান, লাইট ইত্যাদি যেহেতু চলে তাই আমার মাথায় আসে তাহলে গাড়িতে এটা ব্যবহার করা হচ্ছে না কেন। তখন ভিডিওতে ‘টেসলা’ নামে এক অ্যামেরিকান গাড়ি কোম্পানির ব্যাটারি চালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণ করা দেখেছিলাম। ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই আমার মনে সংকল্প আরো দৃঢ় হয়, আমি নিজেই সৌরশক্তি ব্যবহার করে গাড়ি তৈরি করতে পারব।
প্রকল্পটি শুরু করেছিলাম ২০১৮ সালের জুনে। যবিপ্রবির ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণা তহবিল থেকে বরাদ্দ পেয়েছিলাম গাড়ি তৈরির সব খরচ। স্থানীয় এক গ্যারেজে তৈরি করেছি এই সৌরশক্তি চালিত গাড়ি। গাড়ির সমস্ত যন্ত্রপাতি দেশীয় বাজার থেকে সংগৃহীত। মাত্র দেড় লাখ টাকার মধ্যে বানিয়ে ফেললাম সৌরশক্তিচালিত এই গাড়ি। একদিনের চার্জে সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে সক্ষম। আমার তৈরি এই গাড়িটি একজন চালকসহ দুইজন যাত্রী বহন করতে পারে। গাড়িটি সর্বোচ্চ ৩৩০ কেজি ভার বহন করতে পারে।
গতানুগতিক গাড়ি ছেড়ে কেন এই সৌরশক্তি চালিত গাড়ি ব্যবহার করবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণত আমরা রাস্তায় যেসব থ্রি হুইলার বা ইজিবাইক দেখতে পাই এগুলো চার্জে চলে, যা আমাদের দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া ইজিবাইকগুলো চায়না থেকে আমদানি করতে হয়। যার জন্য প্রতি বছর হাজার হাজার ডলার খরচ করতে হচ্ছে। সরকার বৈদ্যুতিক ঘাটতি যাতে সৃষ্টি না হয় এজন্য এসব ইজিবাইকের অনুমোদন দিচ্ছে না। আমরা এই ‘সোলার কার’ একদিকে যেমন বিদ্যুতের ঘাটতি রোধ করবে, অন্যদিকে দেশীয় যন্ত্রপাতিতে তৈরি বলে আমদানির খরচও কমাবে। এছাড়া এটি পরিবেশবান্ধব গাড়ি।
গাড়ি তৈরি করতে কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে- এর উত্তরে তিনি বলেন, মডেলটি তৈরিতে কোনো সমস্যা হয়নি। প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি স্থানীয় বাজারে পেয়েছিলাম। কিন্তু গাড়ির মডেলটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করতে হলে আমার দরকার আরো উন্নত মানের সোলার প্যানেল, যা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে। আমাদের দেশে সচরাচর এ ধরনের উন্নতমানের সোলার প্যানেল পাওয়া যায় না। আমি গাড়িটিকে একদিনের চার্জে সর্বোচ্চ ১০০কিমি রাস্তা চলার মত উপযোগী করে তুলতে চাই। গাড়িকে যদি দিনে ১০০ কিলোমিটারের মতো চালানোর শক্তি যোগান দিতে হয় তাহলে এ ধরনের উন্নতমানের সোলার প্যানেলের প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে হুমায়ুন কবির বলেন, এই মডেলটিকে আরো ডেভেলপ করতে চাই। যাতে বাণিজ্যিকভাবে আমার তৈরি করা এই গাড়িটি ইজিবাইকের বিকল্প হিসেবে রাস্তায় নামতে পারে। এতে করে আমাদের বৈদ্যুতিক ঘাটতির যে সমস্যা তার সমাধান হবে। এছাড়াও সৌরশক্তি চালিত গাড়ি পরিবেশবান্ধব ও কম পরিবেশ দূষণ ঘটায়। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বেকারত্ব দূর করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এই সৌরশক্তি চালিত গাড়ি।
ঢাকা/সজীবুর/সাইফ
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2SqAYwO
0 comments:
Post a Comment