One can get information of Technology, Online income info, Health, Entertainment, Cooking & Recipe, Bye & Sale, Sports, Education, Exclusive news and many more in single bundle. ভান্ডার 24 থেকে আপনি পাচ্ছেন টেকনোলজি ইনফরমেশন, অনলাইনে ইনকাম ইনফরমেশন, হেলথ, এন্টারটেইনমেন্ট, কুকিং & রেসিপি, কেনা বেচা, স্পোর্টস, এডুকেশন, এক্সক্লুসিভ নিউজ ও আরো অনেক কিছু |

Tuesday, December 3, 2019

রোহিঙ্গা আশ্রয়: হারিয়ে যাচ্ছে প্রাণীর বিচরণ

রোহিঙ্গা আশ্রয়: হারিয়ে যাচ্ছে প্রাণীর বিচরণ

সুজাউদ্দিন রুবেল

কক্সবাজারের বনাঞ্চলে দিন দিন কমছে প্রাণীর বিচরণ। হারিয়ে যাচ্ছে বানর, বনমোরগ, বনরুইসহ নানা প্রাণী। খাদ্য ও আবাস সংকটে বারবার লোকালয়ে চলে আসছে হাতি। এর সবকিছুই ঘটছে বন কেটে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়স্থল নির্মাণে।

রোহিঙ্গাদের বসতি স্থাপন ও জ্বালানির জন্য প্রতিদিনই উজাড় হচ্ছে একরের পর একর বনভূমি। ধ্বংস হচ্ছে কৃষি জমি ও বড় বড় পাহাড়। এতে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন স্থানীয়রা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের যে পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে তা কখনোই পূরণ করার সক্ষমতা  নেই। এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ার পাশাপাশি পর্যটন সম্ভাবনাও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে পালিয়ে মানবিক কারণে আশ্রয় পাওয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গা এখন সবদিক থেকে বাংলাদেশের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের কারণে দেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি বিলুপ্ত হচ্ছে বনাঞ্চলও।

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, রোহিঙ্গারা আসার পর কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে প্রায় ৮ হাজার একর বনভূমি ধ্বংস হয়েছে। এতে বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্যের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। প্রাণীবিদরা বলছেন, শুধু বনভূমিই ধ্বংস নয় এতে হারিয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির প্রাণী।

বাংলাদেশ প্রাণী বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. গুলশান আরা লতিফা বলেন, ‘উখিয়া-টেকনাফের বনাঞ্চলে বানর, ক্যামেলিয়ান, বনরুই, সজারু, বনগাই, ময়ূর, বনমোরগসহ নানা প্রজাতির প্রাণী অনেক চোখের বাইরে চলে গেছে। যা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার কারণে এলাকায় সেসব বন্যপ্রাণী এখন বিলুপ্তির পথে।’

অতিরিক্ত মানুষের চাপে কক্সবাজার জেলার নদী ও খালে যেমন দূষণ বাড়ছে, তেমনি নষ্ট হচ্ছে সমুদ্রের পরিবেশও। এতে এসডিজি বাস্তবায়ন এবং সমুদ্র অর্থনীতিতে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে বলে মনে করেন সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে প্রচুর ভূমি ধস ও ভূমি ক্ষয় হয়েছে। এটি হচ্ছে মাটিতে কোনো উদ্ভিদ না থাকার কারণে। উপকূলীয় বনাঞ্চল না থাকার কারণে বিশেষ করে এখানে যে অর্গানিক মেটার তৈরি হয় সেটা কিন্তু মাছের খাদ্য। এটি কিন্তু ধীরে ধীরে অনেক নষ্ট হয়ে গেছে। অদূর ভবিষ্যতে ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ। যেখানে রাস্তার দুই পাশে দেখা যেত বড় বড় পাহাড়ে ছোট-বড় গাছ-গাছালি আর সবুজে ঘেরা ফসলি জমি। কিন্তু গত দুই বছর ধরে আর সে দৃশ্য চোখে পড়েনা। এখন শুধু তাকালেই দেখা যায় ক্ষতচিহ্ন আর রোহিঙ্গাদের বসতি। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে গাছ-গাছালি, পাহাড় ও ফসলি জমি ধ্বংস করে গড়ে তোলা হয়েছে ইচ্ছামত বসতি ও স্থাপনা। এতে বিপন্ন উখিয়া-টেকনাফের জীব-বৈচিত্র্যও।

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ‘গাছ-পালা, পাহাড়, বন সবকিছু রোহিঙ্গা আসার পর ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন আমাদের শ্বাস-নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে।’

এইচএম নজরুল নামে আরেক বলেন, ‘দিন দিন রোহিঙ্গার সংখ্যাও বাড়ছে। এতে পরিবেশের ওপর চাপও পড়ছে। ফলে এ অবস্থা চলতে থাকলে প্রাকৃতিক দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হবে।’

আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের সমন্বয়ক কলিম উল্লাহ বলেন, ‘রোহিঙ্গারা প্রতিদিনই বন উজাড় করছে। যা তারা রান্নার লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করছে। এছাড়া ১১ লাখ রোহিঙ্গার পয়ঃবর্জ্যে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় হচ্ছে।’

এদিকে রোহিঙ্গাদের অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হলে স্থানীয়দের বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানালেন কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দিপু।

তিনি রাইজিংবিডিকে জানান, ‘রোহিঙ্গারা গাছ কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এই রোহিঙ্গাদের কারণে পরিবেশ, বায়ু, পানি দূষিত হচ্ছে। এমনকি কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের ওপরও বড় ধরনের আঘাত পড়ছে।’

এদিকে সম্প্রতি উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

এ সময় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থাপনের কারণে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে নেয়া কোনোভাবে সম্ভব নয়। তবে যতটুকু সম্ভব এই ক্ষতি পরিমাণ, ধারণ নির্ধারণে কাজ শুরু হয়েছে। তা পুষিয়ে নিতে কি করা দরকার বিশেষজ্ঞরা কাজ করবেন।

বন বিভাগের হিসাবে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা নির্যাতিত রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে উখিয়া ও টেকনাফের সাড়ে ছয় হাজার একর বনভূমিতে। তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, এখন দশ হাজার একর বনভূমি ছাড়িয়েছে।



কক্সবাজার/রুবেল/সাইফ



from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2YlBxsU
Share:

0 comments:

Post a Comment

Popular Posts

Recent Posts

Unordered List

Text Widget

Pages

Blog Archive

3i Template IT Solutions. Powered by Blogger.

Text Widget

Copyright © ভান্ডার 24 | Powered by 3i Template IT Solutions