One can get information of Technology, Online income info, Health, Entertainment, Cooking & Recipe, Bye & Sale, Sports, Education, Exclusive news and many more in single bundle. ভান্ডার 24 থেকে আপনি পাচ্ছেন টেকনোলজি ইনফরমেশন, অনলাইনে ইনকাম ইনফরমেশন, হেলথ, এন্টারটেইনমেন্ট, কুকিং & রেসিপি, কেনা বেচা, স্পোর্টস, এডুকেশন, এক্সক্লুসিভ নিউজ ও আরো অনেক কিছু |

Wednesday, December 25, 2019

পেঁয়াজের ঝাঁজে নাকাল জনগণ

পেঁয়াজের ঝাঁজে নাকাল জনগণ

কেএমএ হাসনাত

বছরের আলোচিত বিষয় ছিল পেঁয়াজ। পেঁয়াজের ঝাঁজ নিম্নআয়ের মানুষ থেকে শুরু দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের মানুষের চোখে জল এনেছে। বাজারের উত্তাপে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো সরব হয়ে ওঠে। তারা এজন্য সরকারের বাণিজ্যনীতিকে দোষারোপ করে। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্যরা ঝাঁজালো বক্তব্য দেন। চাহিদা ও যোগানের ভারসাম‌্যহীনতার কারণে পেঁয়াজের দাম যতটা বেড়েছে, একইভাবে ভোক্তাদের প্যানিক বায়িংয়ের কারণেও দামের লাগাম ধরে রাখা যায়নি।

খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তিনি পেঁয়াজ ছাড়া রান্না করার কথাও বলেন। শুধু তাই নয়, এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নানা ধরনের ট্রল হয়েছে।

ভারত সরকার দেশটিতে পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেও রেহাই পায়নি। সে দেশেও পেঁয়াজের ঝাঁজ ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার নানা পদক্ষেপ নেয়। বেসরকারি খাতে পেঁয়াজ আমদানির ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করা করা হয়। পাশাপাশি বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগসহ টিসিবির মাধ্যমে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপরও পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বাজারে যে পেঁয়াজের কেজি প্রতি দাম ৫৫-৬০ টাকা ছিল, রাতারাতি তা ২৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

কেন হয়েছে এ অবস্থা? বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বার বার বলা হয়েছে, দেশে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তবু কেন বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি? পেঁয়াজ নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের কথাও বলা হয়েছে। অসাধু মজুদকারীদের দায়ী করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের মুখোমুখি হতে হয়েছে পেঁয়াজ আমদানিকারকদের। দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় অভিযান চালানো হয়েছে। তবু কি পেঁয়াজের দামের ঝাঁজ থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে?

প্রতি বছর দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজে চাহিদা পূরণ সম্ভব না হওয়ায় ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ভারতে বন্যার কারণে পেঁয়াজ উৎপাদনে মারাত্মক ব‌্যাহত হয়। এর ফলে সেখানেও পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। একপর্যায়ে ভারত সরকার দাম বাড়ায় এবং রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এ সুযোগটি নেয় দেশের পেঁয়াজের মজুদদাররা। তারা বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দেয়। এর ফলে বাজারে পেঁয়াজের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। দেশের অনেক বাজার থেকে পেঁয়াজ গায়েব হওয়ার খবরও সংবাদমাধ্যমে ছাপা হয়েছে।

পেঁয়াজের দাম নিয়ে যখন দেশবাসীর নাকাল অবস্থা, তখন জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলছিল। এ সময় সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর দেয়া তথ্য থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টন। গত বছর পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছিল ২৩ দশমিক ৩০ লাখ মেট্রিক টন। তবে এর মধ্যে ৩০ ভাগ সংরক্ষণকালীন ক্ষতি বাদ দিলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৩১ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি ছিল ৭ দশমিক ৬৯ লাখ টন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ চাহিদা মেটানোর জন‌্য যথেষ্ট না হওয়ায় বিদেশ থেকে, বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। সম্প্রতি ভারতের মহারাষ্ট্রে বন্যার পরিপ্রেক্ষিতে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের বাজার দর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভারত সরকার গত ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজের ন‌্যূনতম রপ্তানিমূল্য টন প্রতি ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে। আগে পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার। এর ফলে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। ভারতের স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখে। এর ফলে বাংলাদেশের বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়।

বাজারে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রথমে ডিলারদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে ঢাকা মহানগরীর ৩৫টি পয়েন্টে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির ব্যবস্থা নেয় টিসিবি। পরে এর সংখ্যা আরো বাড়ানো হয়। এর পাশাপাশি মিয়ানমার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। এরই একপর্যায়ে বেসরকারি খাতে কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিমানে করেও পেঁয়াজ আমদানি করেছে। তবু নতুন পেঁয়াজ বাজারে না আসা পর্যন্ত দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের পর পণ্যটির দাম এক ধাক্কায় বেড়ে ১২০-১৫০ টাকায় ঠেকে। এরপর দাম বাড়তেই থাকে। একপর্যায়ে ডাবল সেঞ্চুরি ছাড়িয়ে যায়। পেঁয়াজের দাম ক্রমশ বাড়তে থাকায় পেঁয়াজ খাওয়া সীমিত করে আনেন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ।

ঢাকার কাঁঠালবাগানের গৃহিনী কেয়া বেগম পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়া প্রসঙ্গে তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন রাইজিংবিডির এ প্রতিনিধির কাছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুইজনের সংসার সপ্তাহে দেড় থেকে দুই কেজি পেঁয়াজ লাগত। এখন যে দাম, এত দাম দিয়ে পেঁয়াজ কেনা তো সম্ভব নয়। তাই খাওয়া কমিয়ে দিয়েছি। এখন সপ্তাহে আধা কেজি কিনি।’ শুধু কেয়া বেগম নন, এটি দেশের প্রতিটি ঘরের চিত্র।

পেঁয়াজ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছ সরকার। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরাও তাদের অভিমত দিয়েছেন। বর্তমান সরকারের কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক কৃষিবিদ। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, পেঁয়াজের এ সংকট মোকাবিলা করতে প্রতি বছর আমদানির ওপর নির্ভরতা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে তিনি দেশের অভ্যন্তরে পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেন। পাশাপাশি পেঁয়াজ সংরক্ষণের আধুনিক উপায় বের করার পরামর্শ দেন।

একইভাবে অন‌্য বিশেষজ্ঞরাও বলেন, বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণভাবে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ উৎপাদন করতে না পারলে যেকোনো সময় এমন সংকট আবার দেখা দিতে পারে।

এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠেতেই পারে, চাইলেই কি পেঁয়াজের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব?

দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন হলেও এই ফসল উৎপাদনে কৃষকদের বেশকিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এরপরও কৃষক ধান চাষে যতটা উৎসাহী, পেঁয়াজ চাষে ততটা নন। আর্থিক লাভটাকেই তারা বড় করে দেখেন। পেঁয়াজ একটি পচনশীল পণ্য। ইচ্ছে করলেই বেশিদিন ধরে রাখা যায় না। পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য দেশে উপযুক্ত কোল্ডস্টোরেজও তেমন নেই। তাই ভারত এবং অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে ১৭ থেকে ১৯ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়, যা মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ। চাহিদার বাকি ৪০ শতাংশ অথবা ৭ থেকে ১১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। আমদানির ৯৫ শতাংশ আসে ভারত থেকে। বাকি পেঁয়াজ আসে মিয়ানমার, মিশর, তুরস্ক প্রভৃতি দেশ থেকে।

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার পর বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষ আশা করেছিল, এবার হয়তো দাম স্থিতিশীল হবে। কিন্তু বাজারে পেঁয়াজের দাম তো কমেনি, উল্টো বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, একটি দেশ যে সব ধরনের ফসলে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে, এমন কোনো কথা নেই। কোনো দেশ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর বাজারে দাম বেড়ে যেতে পারে। এ কারণে আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে হঠাৎ সংকট সৃষ্টি হতেই পারে। এ সময় উৎপাদন বাড়ানোর পরিবর্তে বাজার মনিটরিংয়ের দিকে নজর বাড়ানো উচিত। সরকারকে মনিটর করতে হবে যে, দাম বাড়ার আসল কারণটা কী? সেটা কি চাহিদা-যোগানের ভারসাম্যহীনতার কারণে হয়েছে, নাকি ব্যবসায়ী ও মধ্যসত্ত্বভোগীরা অসাধু উদ্দেশ্যে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে?

পেঁয়াজ নিয়ে ভোক্তা সাধারণের সংকটের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বা সিন্ডিকেটকে। এইসব সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতে একাধিক বাজারে অভিযান চালানো হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জেল-জরিমানাও করা হয়েছে।

ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়া ও তার সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর অসাধু প্রবণতা পেঁয়াজের সংকট তৈরি করেছে বলে বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে পেঁয়াজের সংকটের জন্য ব্যবসায়ীদের অসাধু যোগসাজশের বিষয়ে হুঁশিয়ার করেছে। সরকারও পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখেছে।

বাজারে চাহিদার তুলনায় কোনো পণ্যের সরবরাহ কম হলে দাম বাড়বে, এটা স্বাভাবিক সূত্র। আর পণ্যটি যদি হয় নিয়মিত ব্যবহার বা ভোগের জন্য অপরিহার্য, তাহলে দাম বাড়লেও চাহিদা তেমন একটা কমবে না। আর চাহিদা না কমায় সরবরাহ ঘাটতির কারণে দামও চড়া থাকবে, এমনকি ক্রমেই বাড়তে থাকবে, যদি ক্রেতারা আরো দাম বাড়ার আশঙ্কায় বেশি করে কেনার চেষ্টা করেন। এটাই প্যানিক বায়িং। পেঁয়াজের ক্ষেত্রে এরকম প্রবণতা দেখা গেছে। লবণের বাজারেও এমন পরিস্থিতি হয়েছিল। সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপে তা রোধ করা সম্ভব হয়েছিল।

লক্ষণীয় দিক হলো- দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা, উৎপাদন ও আমদানির পরিসংখ্যানে অস্পষ্টতা আছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ (২০১৬) খানা আয়-ব্যয় জরিপ অনুসারে, দেশে একজন মানুষ দৈনিক গড়ে ৩১ গ্রাম পেঁয়াজ খেয়ে থাকেন, যা ২০১০ সালে ছিল ২২ গ্রাম। মানে পাঁচ বছরে পেঁয়াজের মাথাপিছু ভোগ বেড়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ। ২০০৫ থেকে ২০১০ সময়কালে এটি বেড়েছিল প্রায় ২০ শতাংশ হারে। দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১৩ লাখ (শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৭, বিবিএস)। সে হিসাবে দেশে বছরে পেঁয়াজের ন‌্যূনতম চাহিদা হয় অন্তত ১৯ লাখ টন। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদে অবহিত করেন যে, পেঁয়াজের দৈনিক চাহিদা ৬ হাজার টন। মানে বছরে চাহিদা প্রায় ২২ লাখ টন। তবে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের প্রাক্কলন অনুসারে, বার্ষিক চাহিদা অন্তত ২৪ লাখ টন।

বিবিএসের হিসাবে, ২০১৮ সালে (২০১৭-১৮) দেশে ১৭ লাখ ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের হিসাব, এই সময়ে উৎপাদিত পেঁয়াজের পরিমাণ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন। মানে দুই সরকারি সংস্থার হিসাবে, পেঁয়াজের উৎপাদনে ৬ লাখ টন গরমিল, যা বিভ্রান্তি তৈরির জন্য যথেষ্ট। তবে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের অন্তত ২৫ শতাংশ নষ্ট হয় যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে। ফলে দেশীয় পেঁয়াজের সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ বাজারে আসে। এটি বিবেচনায় নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব মানলে বছরে ৬ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা প্রয়োজন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উপাত্ত অনুসারে, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে দেশে ১১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৯ লাখ টন। বিবিএসের উৎপাদন হিসাব মানলে ও তা থেকে ২৫ শতাংশ বাদ দিলে আমদানি করতে হয় সাড়ে ৯ থেকে ১০ লাখ টন পেঁয়াজ।

সুতরাং, পেঁয়াজের চাহিদা-জোগানের ভারসাম্য ঠিক রাখতে হলে প্রকৃত চাহিদা ও প্রকৃত উৎপাদন নির্ণয় করা জরুরি। আমদানির বিভিন্ন বিকল্প উৎসও খুঁজতে হবে। পর্যবেক্ষণ করতে হবে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের পেঁয়াজ উৎপাদন পরিস্থিতি। আমদানিকারক ও পাইকারি বিক্রেতাদেরও তদারকি করা প্রয়োজন। তবে সবগুলো কাজের জন্যই হালনাগাদ, বিস্তারিত ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রয়োজন।

তথ্য-পরিসংখ্যানের ঘাটতি থাকলে বা সেগুলো নিবিড়ভাবে নিয়মিত বিশ্লেষণ করতে না পারলে সময়ে-অসময়ে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেবে। অসাধু কিছু ব্যবসায়ীও তার সুযোগ নেবে ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে। সময় এখন এদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করার।



ঢাকা/হাসনাত/রফিক



from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2QjlzM9
Share:

0 comments:

Post a Comment

Popular Posts

Recent Posts

Unordered List

Text Widget

Pages

Blog Archive

3i Template IT Solutions. Powered by Blogger.

Text Widget

Copyright © ভান্ডার 24 | Powered by 3i Template IT Solutions