
কমিটির বিরুদ্ধে ছাত্রদলে বিদ্রোহ
নিজস্ব প্রতিবেদকসদ্য ঘোষিত আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একটি অংশ।
কমিটির বিরুদ্ধে গতকাল সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে বিদ্রোহী গ্রুপ। খুব শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, যে ক্রাইটেরিয়া দিয়ে সবাইকে বাদ দেয়া হয়েছে সেই একই ক্রাইটেরিয়ার ভিতরে যারা আছেন তাদের অনেকেই কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা হয়েছে। এটা কেন করা হয়েছে?
যখন কাউন্সিলের তফসিল ঘোষণা করা হলো ২১ থেকে ২৩ দিন পর নতুন করে আবার ক্রাইটেরিয়া দেয়া হলো, সেই ক্রাইটেরিয়া দেয়ার মানে কি?
দেশনায়ক তারেক রহমান যে ক্রাইটেরিয়া দিয়েছেন যে তফসিল দিয়েছেন তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য?
তিনি বলেন, মনে করেছিলাম যদি আমাদের সেক্রিফাইসের মাধ্যমে ছাত্রদলের উন্নয়ন হয়, ছাত্রদলের গতি বৃদ্ধি পায় তাহলে আমরা নিজেদেরকে বলি দিয়ে দিব।
এজন্য আমরা চুপ করে থাকলাম, শেষ পর্যন্ত আমরা কাউন্সিলে সহযোগিতা করলাম। কিন্তু খোকন-শ্যামলের নেতৃত্ব কোনো নেতারা মেনে নিত না, কেউ তাদেরকে সম্মান করতো না, অথচ আমরা খোকন-শ্যামলকে সম্মান দিয়েছি। তাদের নেতৃত্বে ছাত্রদল একত্র হওয়ার চেষ্টা করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা তাদেরকে নিয়ে মার্চ করেছি।
সর্বশেষ আমরা কী দেখলাম আমরা যে সেক্রিফাইস করেছি, আমাদের পার্টির কাছে, দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে তারা বলেছে আমাদের ছাড়া ছাত্রদল চলবে।
ছাত্রদলের ঢাবি শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শহীদ মল্লিক বলেন, ক্রাইটেরিয়া দেয়া হয়েছিল যে যারা ১০ শতাংশ ভোট পাবে না তারা কোনো ভাবেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসতে পারবে না। কিন্তু বেশ কয়েকজন আছেন যারা শর্ত পূরণ না করলেও কেন্দ্রীয় কমিটির পদ তাদের এক রকম উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছে।
বিবাহিতদের কমিটিতে পদায়নের পক্ষে যুক্তি দিয়ে এ নেতা বলেন, আগেও প্রায় সব কমিটিতেই বিবাহিত থাকার নজির আছে। সেটা আমাদের অনুপ্রাণিত করে। কারো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যা থাকলে সে বিয়ে করবে না, কিন্তু সেটার জন্য যে অন্য কাউকে রাজনীতি করতে দেয়া হবে না এটা ঠিক নয়।
কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতীকী কুশপুতুল হিসেবে তাদের পোস্টার পোড়ায় বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা। এছাড়া তাদেরকে সারা দেশে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান মল্লিক। শিগগিরই প্রেস কনফারেন্স করে ফলাও করে এ ঘোষণা দেয়া হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
গত ১৯ অক্টোবর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে নির্বাচিত সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল হন। সর্বশেষ গত ২০ ডিসেম্বর রাতে ৬০ সদস্য বিশিষ্ট ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়।
গত (রাজিব-আকরাম) কমিটি ছিলো ৭৩৪ সদস্য বিশিষ্ট। ছাত্রদলের নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের খবর অনুযায়ী এবার ১৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে একটা বিশাল সংখ্যক নেতাকর্মী বাদ পড়ে যাচ্ছেন, যা সংগঠনেরে বিদ্রোহকে আরো ত্বরান্বিত করছে। অন্যদিকে বিবাহিতদের বাদ দেয়া হবে এমন আশঙ্কা থেকে আগেই বিদ্রোহ করেন বিবাহিত নেতারা।
ঢাকা/ইয়ামিন/জেনিস
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2MnCsnS
0 comments:
Post a Comment