
দেড় দশকও হলের মুখ দেখেনি জবি শিক্ষার্থীরা
জবি সংবাদদাতাপ্রতিষ্ঠার দেড় দশক পার হলেও এখনো হলের মুখ দেখেনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।
জ্যাম ঠেলে পুরান ঢাকায় যাতায়াত কষ্টকর ও সময়সাধ্য বিধায় বাধ্য হয়েই তাদেরকে পুরান ঢাকায় থাকতে হয়।
ঠিক সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন কতিপয় অসাধু বাড়িওয়ালা ও জবির সিনিয়র শিক্ষার্থীরা।
প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর অর্ধেকের বেশিরভাগই থাকেন পুরান ঢাকার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে মেস করে। সেখানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি ভাড়া ও অ্যাডভান্স নেওয়া হয়। আবাসন সংকটের অজুহাতে শিক্ষার্থীদের ওপর নানা রকম অত্যাচার করা হয় প্রতিদিনই।
পুরান ঢাকায় অধিকাংশ এলাকার ভবনগুলো রংচটা, পলেস্তার উঠা, জরাজীর্ণ। ঠাসাঠাসি করে দাঁড়িয়ে আছে একটির গায়ে অন্যটি। নিচতলায় লোহালক্কড়ের কারখানা, চিপা গলি, অন্ধকার সিঁড়ি এখানকার চেনা চিত্র। এমন পরিবেশের সঙ্গে কেবল লেখাপড়ার জন্যই প্রতিনিয়ত লড়াই করে থাকতে হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের।
কিন্তু মেস ব্যবসার কারণে তাদের জীবন অতিষ্ঠ প্রায়৷ অধিকাংশ বাড়িতে বাড়ির আসল ভাড়া জুনিয়রদের জানানো হয় না। সেক্ষেত্রে সিনিয়ররা জুনিয়রদের কাছ থেকে বাড়ি ভাড়া থেকে কমপক্ষে ৫-৬ হাজার টাকা বেশি আদায় করে। তাদের কাছে আসল ভাড়া জানতে চাইলে তারা নানা রকম হুমকি দিয়ে থাকে।
নবীন শিক্ষার্থীদের সেক্ষেত্রে কিছু করার থাকে না। অসাধু বাড়িওয়ালারা নিজেদের স্বার্থে বিপুল পরিমাণ অ্যাডভান্স টাকা হাতিয়ে নেন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। এই বিষয়ে নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কোন তদারকিও। তাছাড়াও শিক্ষার্থীদের যখন তখন পূর্ব নির্দেশিত কোন নোটিশ ছাড়া বাসা ছাড়তে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৪তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বাড়িভাড়া সম্পর্কে আমাদের প্রথমে জানানো হয়নি, ধরা-বাধা এক এমাউন্ট আমাদেরকে বলা হয়েছে। ঘটনাক্রমে বাড়ির দারোয়ানের কাছ থেকে জানতে পেরেছি বাড়ির আসল ভাড়া থেকে পাঁছ হাজার টাকা বেশি আদায় করে সিনিয়ররা। কথা বলতে গেলে নানা রকম হুমকি দেয় তারা।’
মেস ব্যাবসা সম্পর্কে এক শিক্ষার্থী তার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে জানান, অসুস্থ থাকায় নিজের মাকে আনতে চাওয়ায়, সিনিয়র তার থাকার জন্য প্রতিদিন ২০০ টাকা অ্যডভান্স প্রদান করতে বলে এবং টাকা না দিলে মাকে আনতে নিষেধ করে।
জবির আরেক শিক্ষার্থী রুনা জানান, বিভিন্ন বাড়িওলারা বিনা নোটিশ গ্যাস বিল/ বিদ্যুৎ বিল/পানি বিল/বাড়ি ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। প্রতিবাদ করতে গেলে বলে না পোষালে বাসা ছেড়ে দিতে হবে। বাধ্য হয়ে সেখানে থাকতে হয়। আর যারা বাসা ভাড়া নেন তারা থাকেন ফ্রী তে! এমনকি কিছু।কিছু সিনিয়র ভয় দেখিয়ে কাপড় কাচানো থেকে শুরু করে এস্যাইনমেন্টও করিয়ে নেন।
এবিষয়ে জবি প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল জানান, যারা এইসব নিচু মানের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হলে অবশই তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালিকরা খারাপ আচরণ করলে তাদের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তমাল/বুলাকী
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2IgduEt
0 comments:
Post a Comment