
অ্যারাবিয়ান পোশাক বিতর্কে কুয়েট শিক্ষার্থীরা : বিব্রত প্রশাসন
নিজস্ব প্রতিবেদকগায়ে সাদা জুব্বা, মাথায় লাল রুমাল আর চোখে সান গ্লাস, দেখতে অবিকল অ্যারাবিয়ান। আর এ পোশাক পরেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের ১৫ ব্যাচের ছাত্ররা।
শিক্ষার্থীদের এ ধরণের পোশাক পরিহিত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। উঠে এসেছে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা। ‘
এরই মধ্যে কুয়েট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরণের পোশাক দেশীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী- উল্লেখ করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
সূত্র মতে, শেষ ক্লাস উপলক্ষে সম্প্রতি কুয়েটের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের ১৫ ব্যাচের ছাত্ররা ভিন্নধর্মী কিছু করার চিন্তা করেন। এরই অংশ হিসেবে আরবদের মতো পোশাক পরে ছেলেরা। আর মেয়েরা শাড়ি পরে ক্লাসে হাজির হন।
পরে তারা ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রা করেন, একসঙ্গে ঘুরে বেড়ান এবং ছবি তোলেন। আরব দেশীয় পোশাক পরা কিছু ছবি তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও পোস্ট করেন। এরপরই ছবিগুলো ভাইরাল হয়।
কুয়েট শিক্ষার্থীদের ভিন্নধর্মী এ আয়োজন আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করে। ভিন্নধর্মী পোশাক পরায় কেউ কেউ তাদের প্রশংসা করলেও অনেকে আবার তাদের এমন ধরনের পোশাক নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
অ্যারাবিয়ান পোশাক পরা ছবি নিয়ে ফেসবুকে অনেকেই নানা মন্তব্য করেছেন। ভিন্নধর্মী আয়োজনের কারণে অনেকে তাদের প্রশংসা করে বলেছেন, শেষ ক্লাসে স্মরণীয় কিছু করতে পেরেছেন তারা। এতে কোনো সমস্যা দেখছেন না। তবে অনেকে সমালোচনা করে লিখেছেন, এই পোশাকের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কোথায়? এর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের মনস্তত্ত্ব বোঝা যায়। তবে তারা লেখাপড়া শেষ করে কর্মক্ষেত্রে ভালো করুক- এমন প্রত্যাশাও জানিয়েছেন কেউ কেউ।
এদিকে, ১ জানুয়ারি, বুধবার কুয়েট রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ধরণের পোশাক পরে ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রা করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
কুয়েট রেজিস্ট্রার জি এম শহিদুল আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে কিছু নির্দিষ্ট পোশাক পরিধান করে শোভা বা র্যালিতে অংশগ্রহণ করছে- যা বাংলাদেশের সংস্কৃতির পরিপন্থী, বিধায় বিশ্ববিদ্যালয়কে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ছাত্র কল্যাণ দপ্তর, সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বা বিভাগীয় প্রধানদের কাছ থেকে পোশাক সংক্রান্ত মতামত গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হল এবং ছাত্র কল্যাণ দপ্তর, সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বা বিভাগীয় প্রধান ও সকল শিক্ষকদের সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করা হলো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া এই নোটিশ পেয়ে ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যাচের এক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ‘যদি আমরা এমন কিছু না পরে ওয়েস্টার্ণ পোশাক বা ধূতি-পাঞ্জাবি পরতাম তাহলে এত কথা হতো না।’
খুলনা/নূরুজ্জামান/বুলাকী
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/37wRLTh
0 comments:
Post a Comment