
ব্যানার-পোস্টার অপসারণ হলেও রিসাইকেল নিয়ে দুশ্চিন্তা
আহমদ নূরঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচারের জন্য ব্যবহৃত ব্যানার-পোস্টার অপসারণ হচ্ছে জোর গতিতে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন দাবি করছে ইতোমধ্যে তারা ৯০ শতাংশ ব্যানার পোস্টার অপসারণ করেছেন। তবে শঙ্কা তৈরি হয়েছে লেমিনেশনে মোড়ানো নির্বাচনী পোস্টার নিয়ে। কারণ এগুলো রিসাইকেলে সিটি করপোরেশন থেকে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
যদিও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র (দায়িত্ব গ্রহণ করেননি) আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, লেমিনেশন করা তার পোস্টারগুলো অপসারণ করে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাগজ ও প্লাস্টিক আলাদা করবেন। পরে প্লাস্টিক আলাদাভাবে রিসাইকেল করবেন।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এবারের ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রায় তিন হাজার টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হয়েছে। যা অন্যান্যবারের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, এ নির্বাচনে যে পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদন হয়েছে তা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এ কারণে আসছে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যায় পড়তে হবে নগরবাসীদের। পাশাপাশি পরিবেশের জন্য এর দীর্ঘমেয়াদী খারাপ প্রভাব তো রয়েছেই।
তবে বড় আকারে প্লাস্টিক রিসাইকেল সম্ভব নয়, জানিয়ে তারা বলছেন- কৌশলে এগুলোর ব্যবহার করতে হবে।
সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা দড়িতে ঝুলানো পোস্টার ছিঁড়ে ময়লার গাড়িতে করে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে পৌঁছে দিচ্ছেন। মূলত সেখান থেকে ব্যানার পোস্টারগুলো ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লেমিনেশন ও ননলেমিনেশন নির্বাচনী পোস্টার প্রায় সবই অপসারণ করা হয়েছে। কিছু জায়গায় ব্যানার পোস্টার থাকলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এগুলোও দ্রুত অপসারণ করা হবে। তবে অনেক পোস্টার ছিঁড়ে সড়কের পাশে পড়ে আছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে এগুলো নালায় ঢুকে যাবে। এতে রাজধানীর ড্রেনেজ সিস্টেম বিকল হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
লেমিনেডেট পোস্টার অপসারণের বিষয়ে আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি তার পোস্টার নিজেই অপসারণ করবেন এবং এ লক্ষ্যে তিনি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর বনানীতে পোস্টার অপসারণ কার্যক্রম চালান। এছাড়া আওয়ামী লীগ সমর্থিক নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসও ব্যানার পোস্টার অপসারণে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান।
বিএনপি সমর্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনও নির্বাচনী পোস্টার অপসারণে তার নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন। নিজ শহরের প্রতি ভালবাসা থেকে পোস্টার অপসারণে সবাইকে আহ্বান জানান তিনি। একই বার্তা দিয়েছেন উত্তরে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল।
এরা ছাড়া নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করা কোনো প্রার্থী ব্যানার পোস্টার অপসারণে নির্দেশনা বা কাজ করেননি।
পোস্টার অপসারণের অগ্রগতি জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জন সংযোগ কর্মকর্তা এ এস এম মামুন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমরা প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যানার-পোস্টার অপসারণ করেছি। বাকিগুলো দুই-একদিনের মধ্যে অপসারণ করে ফেলব।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ব্যানার পোস্টার অপসারণ প্রায় শেষ পর্যায়ে।’
এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘লেমিনেটেড পোস্টারের কারণে পরিবেশের বিরাট ক্ষতি হয়েছে। সর্ব শক্তি নিয়োগ দিয়ে এগুলো অপসারণ করলেও অন্তত ৩০ শতাংশ পোস্টার নালা-নর্দমায় পৌঁছাবে। বর্ষায় যা জলাবদ্ধতা তৈরি করবে। লেমিনেটেড পোস্টার রিসাইকেল করা সম্ভব। তবে সহজ নয়।’
এদিকে নির্বাচনী পোস্টার ব্যবহার করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খাতা এবং ব্যানার ব্যবহার করে ব্যাগ করছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সবাই প্রতিষ্ঠানটির প্রশংসা করেন।
আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘এ ধরনের আরো কিছু স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসলে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত লেমিনেটেড পোস্টারে সৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি কিছুটা কমানো যাবে।’
ঢাকা/নূর/সনি
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2tF8UvQ
0 comments:
Post a Comment