
স্বাধীনতার জন্য প্রথম জীবন উৎসর্গ করলেন যে ৪ জন
রেজাউল করিমবশরুজ্জামান চৌধুরী, জাফর আহমদ, দীপক বড়ুয়া এবং মাহবুবুল আলম চৌধুরী। তারা ছিলেন চট্টগ্রামের চৌকস ছাত্রলীগ নেতা।
২৬ মার্চ কালো রাত্রিতে হানাদার বাহিনী যখন ঝঁপিয়ে পড়ে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালীর উপর তখন এই চার ছাত্রনেতা তৈরি হচ্ছিলেন যুদ্ধের জন্য।
শুরুতেই নিয়োজিত হন মুক্তিযোদ্ধাদের রসদ সরবরাহের কাজে। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর মাত্র একদিনের মধ্যেই প্রাণ উৎসর্গ করতে হয় এই চার তরুণকে। গাড়িতে করে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রসদ নিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের বর্তমান চেরাগি পাহাড় এলাকায় হানাদার বাহিনীর ব্রাশ ফায়ারে নিহত হন ছাত্র নেতা বশরুজ্জামানসহ চারজন। এই চারজনই ছিলেন চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ।
চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মতে, ২৬ মার্চ হানাদার বাহিনীর আক্রমণের পর চট্টগ্রামেও প্রস্তুতি নেয় মুক্তিযোদ্ধারা। একইভাবে শহীদ বশরুজ্জামানসহ চার ছাত্রনেতা প্রস্তুতি নেন সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়ার। প্রথম দিন থেকেই তারা মুক্তিযোদ্ধারের রসদ সরবরাহের কাজ করছিলেন। ২৬ মার্চের পর চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ী স্টেডিয়ামের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত নৌ ভবনে অবস্থান নেয়া পাকিস্তানি সৈন্যরা ২৭ মার্চ ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন ও মোছলেম উদ্দিনকে আটক করে অমানবিক নির্যাতন চালায়।
এরপর ২৮ মার্চ পাকিস্তানি সৈন্যদের একদল পুরাতন বিমান অফিসের পেছনের গলি দিয়ে মেথর পট্টি হয়ে এবং লাভ লেইন দিয়ে ডিসি হিলে উঠে অবস্থান নেয়। ২৮ মার্চ ছাত্রনেতা বশরুজ্জামানসহ চারজন এক গাড়ি নিয়ে নগরীর আন্দরকিল্লা থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রসদ নিয়ে যাচ্ছিলেন।
তাদের গাড়িটি নগরীর চেরাগী পাহাড়ের কাছে আসতেই হানাদার বাহিনী গাড়ি লক্ষ্য করে ব্রাশ ফায়ার করে। এরপর গাড়ির কাছে এসে চার ছাত্রনেতাকে গুলি ছুড়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এই চার তরুণের রক্তে প্রথমে চট্টগ্রামের রাজপথ রঞ্জিত হয়। এই চার তরুণই ছিলেন চট্টগ্রামে হানাদার বাহিনীর হাতে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ।
যুদ্ধের শুরুতেই বশরুজ্জামানসহ চার তরুণ জীবন দেয়ার পর বশরুজ্জামানের পরিবার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তার বাড়িটি উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। বশরুজ্জামানের বাবা নুরুজ্জামান চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী এবং আওয়ামী লীগের সমর্থক। স্বাধীনতা যুদ্ধেও পুরো নয় মাস নুরুজ্জামান চৌধুরীর পাথরঘাটার বাসা ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নিরাপদ আস্তানা।
‘জুপিটার হাউস’ নামের এই বাড়িটি উন্মুক্ত ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। পুত্রের জীবন হানাদার বাহিনী কেড়ে নিলেও নুরুজ্জামান চৌধূরী পিছপা হননি। যুদ্ধের পুরো সময়টাতে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সহায়তা করেছেন।
সর্বশেষ ২০১৪ সালে বশরুজ্জামানসহ যে চার ছাত্রনেতা যেস্থানে মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন সেই চেরাগী পাহাড় এলাকায় এক স্মৃতি ফলক নির্মাণ করা হয়।
চট্টগ্রাম/বুলাকী
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2VH8DEh
0 comments:
Post a Comment