
হোম কোয়ারেন্টাইনে কীভাবে কাটছে তাদের দিনগুলো
মেহেদী হাসান ডালিমকরোনাভাইরাসের ভয়ঙ্ককর থাবায় থমকে গেছে গোটা বিশ্ব। থমকে গেছে বাংলাদেশ। বদলে গেছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের চিত্র। ছোঁয়াচে এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার এখন পর্যন্ত একমাত্র উপায় হোম বা সেলফ কোয়ারেন্টাইন। বাংলাদেশে সরকারিভাবে ঘোষণার আগে থেকেই সচেতন অনেক ব্যক্তি সেলফ কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। কেমন আছেন তারা? সেলফ কোয়ারেন্টাইনে কিভাবে কাটছে তাদের দিনগুলো? এবিষয় নিয়ে রাইজিংবিডির কাছে চারজন সচেতন ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত নারী তাদের অনুভূতি তুলে ধরেছেন। তা নিয়েই প্রতিবেদন।
ব্যারিস্টার উপমা বিশ্বাস। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বিটিভির ইংরেজি খবর পাঠক। সেলফ কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রসঙ্গে উপমা বিশ্বাস বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেকে, প্রিয় মানুষদের রক্ষা করার জন্যই সেলফ কোয়ারেন্টাইনে থাকছি। বাচ্চাদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছি। আমি বলবো, করোনাভাইরাস আমাদের স্বাস্থ্যসচেতন করে তুলেছে। আমরা বার বার হাত ধুতে অভ্যস্থ হচ্ছি। সঙ্গে বাচ্চারাও একই কাজ করছে। করোনাভাইরাস আমার মনে এই উপলব্ধির জন্ম দিয়েছে, শুধু কাজের পেছনে ছুটলেই হবে না, প্রিয়জনদের, কাছের মানুষদের সময় দিতে শিখিয়েছে প্রাকৃতিক এ দুর্যোগ। আমি আমার জায়গা থেকে প্রত্যেককে আহবান করবো, কষ্ট হলেও আসুন আমরা কয়েকটা দিন সেলফ কোয়ারেন্টাইনে থেকে করোনাভাইরাস মোকাবেলা করি।
ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজিজ। তিনিও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। গত ৭ দিন ধরে সেলফ কোয়ারেন্টাইনে। কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রসঙ্গে সুমাইয়া আজিজ বলেন, আগে তো কোর্ট-চেম্বারেই সময় কেটে যেত। এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছি। আমি মনে করি প্রকৃতি করোনাভাইরাসকে উপলক্ষ করে আমাদের এইটুকু সময় দিয়েছে। এই সময়টাকে কাজে লাগাতে হবে। সবার হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে আমাদের আশ-পাশের অস্বচ্ছল মানুষদের সহায়তা করতে হবে। আমরা নিজেরাও এই সহায়তা করছি। একটা বিষয় খুবই কষ্টদায়ক কেউ করোনা আক্রান্ত হলেই তাকে সমাজ থেকে বের করে দেওয়ার মতো প্রবণতা লক্ষ করছি। এই প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। কারণ আমরা যে কেউ তো করোনা আক্রান্ত হতে পারি। আমাদের সবার উচিত হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে স্বাস্থ্য নির্দেশিকা সেটা মেনে চলা।
ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা আহসান। অলাভজনক সংস্থা ‘নো পাসপোর্ট ভয়েস’ এর কো-ফাউন্ডার। গত ৮ দিন ধরে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।
ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা আহসান বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকেও আমাদের কাজ থেমে নেই। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিচ্ছি। পড়াশুনা তো চলছেই। আবার শরীর ও মন সুস্থ এবং ভালো রাখার জন্য নিয়মিত মেডিটেশন-ইয়োগা করছি।
আরেকটি বিষয়, হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে কিন্তু আমরা সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা ভুলিনি। সংগঠনের পক্ষ থেকে আমার আশে-পাশের তিনশত দিনমজুরকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দিয়েছি। আমি সবাইকে আহবান জানাবো, আমরা যেন আমাদের চারপাশের দরিদ্র মানুষকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করি।
ব্যারিস্টার শাহরিনা রাজ্জাক জুহি। নদার্ন ইউনিভার্সিটির ল’ ডিপার্টমেন্টের ফ্যাকাল্টি (লেকচারার)।
শাহরিনা জুহি বলেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি ক্লাস নিয়েছি। এটা এক ধরনের নতুন অভিজ্ঞতা। আবার বাসায় থেকেই আমার সব স্টুডেন্টদের পড়াশোনা মনিটরিং করছি। এখন হাতে তো পর্যাপ্ত সময়। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে আত্মী স্বজন-বন্ধুদের সঙ্গে মোবাইল ফোন-ফেসবুকে নক দিয়ে কথা বলছি।
আর একটি কথা না বললেই নয়, করোনাভাইরাসের কারণে আমরা সৃষ্টিকর্তাকে বেশি বেশি মনে করছি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে আল্লাহকে স্মরণ করছি। নামাজ পড়ছি।
ঢাকা/মেহেদী/এসএম
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/3dsGuqP
0 comments:
Post a Comment