
হলের সম্মেলন কতটা লাভজনক!
সাইফুর রহমানদীর্ঘ চার বছর পর আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের হল সম্মেলন। সম্মেলকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনীতিতে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে নেতা-কর্মীরা। কে আসবে হলের দায়িত্বে- এ নিয়ে হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। ব্যানার-ফেস্টুন ও মিছিল-মিটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন পদপ্রত্যাশীরা।
রুটিন করে দলীয় টেন্টে বেড়েছে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি। আবাসিক হল ও ক্যাম্পাস শ্লোগানে শ্লোগানে মুখর। সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হবে হল সম্মেলন। এতে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। এবারের সম্মেলনে ছাত্রদের ১১টি ও ছাত্রীদের ছয়টি আবাসিক হল নেতৃত্ব চূড়ান্ত করা হবে।
সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ও ২২ নভেম্বর দুই ভাগে ভাগ করে ছাত্রদের ১১টি হলের সম্মেলন করে তৎকালীন রানা-বিপ্লব কমিটি। পরে বিভিন্ন সময়ে নয়টি হলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঝুলিয়ে রাখা হয় শের-ই-বাংলা ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল শাখার কমিটি। এরপর থেকে আর হল কমিটি হয়নি।
ছাত্রলীগের নেতারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে সৎ, যোগ্য, শিক্ষার্থীবান্ধব প্রার্থীদের নেতৃত্বে নিয়ে আসা হবে। সংগঠনের জন্য নিবেদিত ও সকল কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারীরা অগ্রাধিকার পাবে। হল ছাত্রলীগ সুসংগঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের এই বৃহত্তম শাখাটি আরো গতিশীল হবে।
শহীদ হবিবুর রহমান হলের সভাপতি পদপ্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হচ্ছে হল ইউনিট। হল ইউনিট যত সক্রিয় হবে রাজনীতি তত গতিশীল হবে। আসন্ন হল সম্মেলন নিয়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলের সভাপতি পদপ্রার্থী হামিম আল সাফায়াত বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলনকে ঘিরে হলের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসে প্রার্থীদের পদচারণা, শোডাউন, ব্যানার-ফেস্টুন, মিছিলসহ সব মিলিয়ে একটি জাঁকজমকপূর্ণ সম্মেলন হবে বলে আশা করছি।’
মন্নুজান হলের সভাপতি পদপ্রার্থী জান্নাতুন নাঈমা আকন্দ বলেন, ‘এবার ছাত্রী হলগুলোতেও ছাত্রলীগের কমিটি হবে। এটি রাবি ছাত্রলীগের বড় অর্জন হবে বলে আমি মনে করি। হল কমিটিতে নীতিনির্ধারকরা যোগ্য, মেধাবী, ত্যাগী নেতাদের রাখবে এটাই আমার প্রত্যাশা।’
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘হল সম্মেলন ঘিরে ক্যাম্পাসে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। হল ইউনিটগুলো আরো সুসংগঠিত করে রাবি ছাত্রলীগ আরো গতিশীল হবে বলে মনে করি। এছাড়া যারা নেতৃত্বের জায়গা থেকে সৎ, যোগ্য, দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রম করেছে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্লিন ইমেজ রয়েছে তাদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব বেছে নেয়া হবে।’
তবে এই সম্মেলন কতটা লাভজনক হবে সেটা নিয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মনে সন্দেহ রয়েছে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এর আগেও কমিটি হয়েছে। তবে তাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তেমন কোনো উপকার হয়েছে বলে মনে হয় না। বরং ছাত্রনেতা ও কর্মীরা উপকৃত হয়ে থাকতে পারেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এই যে এতো প্রচারণা চালানো হচ্ছে, ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে ক্যাম্পাস। একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে এসব খরচ বহন করা কষ্টসাধ্য। আর এই সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কতটুকু উপকৃত হবে? হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপকার হলেই সম্মেলন সার্থক হবে।’
রাবি/সাইফুর রহমান/সনি
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2Um4R2m
0 comments:
Post a Comment