
হোম কোয়ারেন্টাইনে কেমন আছেন বিচারক-পেশাজীবীরা ?
মেহেদী হাসান ডালিমবিশ্বের ২০৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে মহামারি করোনাভাইরাস। ভয়ঙ্কর এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ হোম কোয়ারেন্টাইন বা ঘরে অবস্থান করছেন। হোম কোয়ারেন্টাইনে কেমন আছেন, কীভাবে দিন কাটাচ্ছেন তা নিয়ে কথা বলেছেন ভিন্ন ভিন্ন পেশার চার নারী।
রাইসা সরকার। কুষ্টিয়ার জেলা জজ আদালতের সহকারী বিচারক। স্বামী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পর্কে রাইসা বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মস্থল কুষ্টিয়াতে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি। বাসাতে নিয়মিত ইয়োগা করছি। বাসার বারান্দায় বাগানে গাছের পরিচর্যা করছি। এর মধ্যে আমার বাগানের অর্কিড গাছে ফুল এসেছে। এটা হোম কোয়ারেন্টাইনে আমার বড় পাওয়া। এছাড়া, আইনের বই, গল্পের বই পড়ছি। তারাশঙ্করের নির্বাচিত ছোট গল্প পড়া শেষ করলাম। সত্যাজিৎ রায়ের চিড়িয়াখানা ছবিটি দেখেছি। মাঝে মাঝে সবাই মিলে লুডু খেলতে বসি। আরেকটি কথা,আমার বাসার গৃহকর্মীসহ যারা আমাদেরকে সার্ভিস দেন তাদের প্রত্যেককে অতিরিক্ত টাকা দিয়েছি। এক দিনের বেতন সরকারি ত্রাণ তহবিলে দিয়েছি।’
রাইসা সরকার বলেন, ‘আমি মনে করি, দেশের এই সঙ্কটময় মুহুর্তে খেটে খাওয়া, দিনমজুর, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। এজন্য একটি সম্মিলিত ত্রাণ তহবিল গঠনের পরামর্শ দিচ্ছি। সবাই মিলে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।’
মাহমুদা আক্তার দীপা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কোপার বেকারী বাংলাদেশের সিনিয়র এইচআর অ্যান্ড ওডি স্পেশালিস্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। স্বামী আর্মি অফিসার।
হোম কোয়ারেন্টাইনে কীভাবে দিন কাটাচ্ছেন জানতে চাইলে দীপা বলেন, আট দিন ধরে বাবা-মায়ের সঙ্গে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি। বাসা থেকে প্রতিনিয়ত অনলাইনে অফিসের কাজ করছি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মিটিং এ অংশ নিচ্ছি।’
দীপা বলেন, ‘ব্যস্ততার কারণে এতদিন আত্মীয় স্বজন-বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। এখন হাতে পর্যাপ্ত সময়। এ সময়কে কাজে লাগিয়ে সবার খোঁজ-খবর নিচ্ছি। সব আত্মীয়-স্বজন এতে খুশি। আমি মনে করি, হোম কোয়ারেন্টাইন পারিবারিক বা আত্মীয়তার বন্ধনকে দৃঢ করছে। কোয়ারেন্টাইনে থেকে ধর্মীয় বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। নিয়মিত নামাজ পড়ছি। রোজা রাখছি। কোরআন তেলওয়াত করছি। এছাড়া, ব্যস্ততার কারণে তো রান্না করতে পারতাম না। এখন আম্মুর সঙ্গে মজার মজার রান্না করছি। শরীর চর্চা অব্যাহত রেখেছি। পরামর্শের বিষয়ে দীপা বলেন, বাসায় থাকতে হবে। বাসায় থেকে সব কাজ করতে হবে এটাই পরামর্শ।
অ্যাডভোকেট শায়লা নাসির। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। স্বামী ব্যাংকার। শ্বশুর বাড়ি হবিগঞ্জে অবস্থান করছেন।
শায়লা নাসির বলেন, ‘কোর্ট বন্ধ হওয়ার পর থেকেই কোয়ারান্টাইনে আছি। এ রকম লম্বা সময় ধরে গৃহবন্দি থাকতে হবে ভাবিনি আগে। পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাছের মানুষদের খবর নিচ্ছি। যা আগে করার সময় হত না। বাচ্চাকে নরমাল হাইজিন এর ব্যপারে সচেতন করছি। নিজেকে মানসিকভাবে স্ট্রং রাখার জন্য ফুড হ্যাবিটস এ ভিটামিন সি, জিংক, প্রোটিন ও সাপ্লিমেন্ট রেখেছি যা কিনা ইম্যুনিটি সিস্টেমের জন্য ভালো। পাশাপাশি WHO এর রুলসগুলো অনুসরণ করার চেষ্টা করছি। বোরিং কোয়ারান্টাইনকে হ্যাপি কোয়ারান্টাইন হিসেবে নিয়েছি। বিনোদনের জন্য ট্রাভেল শো দেখছি। আমি মনে করি, করোনাভাইরাস এমনই সংক্রামক যে শুধু নিজে দূরত্বে থাকলেই হবে না। পাশের মানুষগুলো যেন নিরাপদ দূরত্বে থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। হোম কোয়ারান্টাইন আমাদের জন্য হয়তো আনন্দের হতে পারে। কিন্তু হত-দরিদ্র মানুষের জন্য তা খুবই কঠিন। সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে নিজের পাশের অসচ্ছল মানুষদের আমি সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’
সাঈদা শবনম। পাবনা সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার। স্বামী একজন ঠিকাদার।
হোম কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলো সম্পর্কে শবনম বলেন, ‘১৭ মার্চ থেকে স্কুল বন্ধ হলেও ২৪ মার্চ পর্যন্ত অফিস করেছি। এরপর থেকে আমার কর্মস্থলের পাশেই বাসাতে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি। বাসা থেকে ফোনে-ফেসবুক গ্রুপে শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি নিয়মিত। শিক্ষকরা যেন ছাত্র/ছাত্রীদের পড়াশুনার খোঁজ খবর নেয় সে বিষয়ে বলে দিয়েছি। বাসায় রান্না-বান্না করছি। আত্মীয়-স্বজনের যোগাযোগ রাখছি। করোনা ভাইরাস সম্পর্কে নিজেকে আপডেট রাখার চেষ্টা করছি।’
ধর্মীয় বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। নিয়মিত নামাজ পড়ে কোরআন তেলওয়াত করছি। আল্লাহর কাছে সব সময় ভুল ত্রুটি থেকে পানাহ চাচ্ছি। এভাবেই দিন কাটছে।
নিজেকে নিরাপদ রাখতে হবে, অন্যকে নিরাপদ রাখতে সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
ঢাকা/মেহেদী/ইভা
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/39N99UI
0 comments:
Post a Comment