
ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম সহ্য করা হবে না: চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার
নিজস্ব প্রতিবেদকদেশের করোনাভাইরাস সতর্কতায় কর্মহীন মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ।
তিনি বলেন, ত্রাণ বিতরণের লোক দেখানো ফটোসেশন বন্ধ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবিলা সংক্রান্ত বিভাগীয় কমিটির সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।
এ বি এম আজাদ বলেন, দিনমজুর, বেদে সম্প্রদায়, তৃতীয় লিঙ্গসহ হতদরিদ্র মানুষকে সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এসব ত্রাণ সুষ্ঠুভাবে বণ্টনের আগে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসককে অবহিত করতে হবে। কমপক্ষে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে ত্রাণ বিতরণ করতে হবে।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, পেটের তাগিদে ঘর থেকে বের হয়ে যারা সড়কে নামছে, তাদের ত্রাণ সহায়তার আওতায় আনতে হবে। ত্রাণের নামে কিছু কিছু সংগঠনের ফটোসেশন বন্ধ করতে হবে।
রিকশা থেকে শুরু করে কোনো ধরনের যানবাহন রাস্তায় নামতে পারবে না উল্লেখ করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বিশেষ প্রয়োজনে কেউ ঘর থেকে বের হলে দুপুরের পরপর তাকে ঘরে চলে যেতে হবে। কেউ এ আদেশ অমান্য করে রাস্তায় ঘোরাফেরা করলে জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
করোনার পরীক্ষা ও প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বিভাগীয কমিশনার বলেন, চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস শনাক্তের জন্য এক হাজার কিট ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রয়েছে। জ্বর, শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশি ও হাঁচি নিয়ে হাসপাতালে গেলে আতংকিত না হয়ে রোগীর শরীরে করোনাভাইরাস আছে কিনা- তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি রোগীর নমুনা সংগ্রহ করবে। রোগীর শরীরে করোনাভাইরাস পজেটিভ হলে বিআইটিআইডি, জেনারেল হাসপাতাল, বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতাল, ইম্পেরিয়েল হাসপাতাল ও মেডিক্যাল সেন্টারের আইসোলেশন বেড এবং ভেন্টিলেটরসহ প্রস্তুত রাখা আইসিইউ-এ চিকিৎসা দেওয়া হবে। আইসোলেশনে থাকা কোনো রোগীর মৃত্যু হলে ঐ রোগীর মৃত্যু করোনায় কিনা- তা টেস্টের মাধ্যমে শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা যাবে না। করোনায় মারা যাওয়া রোগীদের সরকারিভাবে দাফন করার জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি রয়েছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে একটি মিডিয়া সেল থাকবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মিডিয়া সেল থেকে ফোকাল পারসন হিসেবে গণমাধ্যম কর্মীদের তথ্য সরবরাহ করবেন একজন প্রতিনিধি।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির, বিআইটিআইডির পরিচালক ডা. এম এ হাসান, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক প্রমুখ।
রেজাউল/বকুল
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/343zUTu
0 comments:
Post a Comment