
করোনাকালের নববর্ষ আজ ভিন্ন আঙ্গিকে
আবু বকর ইয়ামিনসময়কে নদীর স্রোতের মতো কখনো আটকে রাখা যায় না। দেখতে দেখতে একটি মাস পেরিয়ে আসে আরেকটি মাস। বছর পেরিয়ে আসে আরেক বছর। এভাবে কেটে গেলো আরও একটি বাংলা বছর।
আগামীর পথে ছুটে চলার প্রত্যয়ে মহাকালের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেল বঙ্গাব্দ-১৪২৬। শুরু হলো আরেকটি বাংলা নববর্ষ। স্বাগত ১৪২৭।
দিনটিকে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এ উৎসব আয়োজনের অন্যতম অনুষঙ্গ থাকে মঙ্গল শোভাযাত্রা। কিন্তু এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। করোনাভাইরাসের কারণে বৈশাখের প্রথম দিন বের হচ্ছে না জাতিসংঘের ইউনেস্কো ঘোষিত দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা।
তবে দিনটিকে বরণ করতে আনুষ্ঠানিক কোনও আয়োজন না থাকলেও ছবি একেঁ স্বল্প পরিসরে আয়োজন করতে চান শিক্ষার্থীরা।
রীতি অনুযায়ী এ বছর মঙ্গল শোভাযাত্রা তৈরির দায়িত্বে ছিল চারুকলার ২২তম ব্যাচ। এই ব্যাচের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম ইসলাম লিমনের।
তিনি বলেন, আমাদের ব্যাচের সব ধরনের প্রস্তুতিই ছিল। নিয়ম অনুযায়ী মার্চের প্রথম সপ্তাহে গঠন করা হয়েছিল কমিটিও। গুণছিলাম দিনক্ষণ। কিন্তু করোনার কারণে সব শেষ হয়ে গেল।
তবে আনুষ্ঠানিক আয়োজন করা না গেলেও নানাভাবে দিবসটি উদযাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
ফাহিম জানান, প্রত্যেক বছর যারা আমাদের এই কাজটিতে সহযোগিতা করেন বিভিন্ন মোটিফ তৈরিতে, তারা গ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসেন। আমরা একটা প্ল্যান করেছি। এবার তাদের খোঁজ করে প্রত্যেকের জন্য কিছু অর্থনৈতিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করবো। এজন্য আমাদের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে একটি ফান্ড গঠন করা হয়েছে। যেহেতু এবার মঙ্গল শোভাযাত্রা করতে পারছি না। আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ৫০০ মানুষের খাবারের আয়োজন করবো।’
এছাড়া ফেসবুকে ‘ইয়াং আর্টিস্ট নেটওয়ার্ক’ নামে একটি গ্রুপের মাধ্যমে দেশের সব চিত্রশিল্পীকে চলমান প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মিল রেখে বৈশাখ সংক্রান্ত ছবি আঁকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ফাহিম ইসলাম লিমন বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এখান থেকে বাছাই করা ছবি নিয়ে চারুকলা প্রাঙ্গণে প্রদর্শনী আয়োজন করতে চাই আমরা।’
চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, সরকারের নির্দেশনা আছে এবার পয়লা বৈশাখ কোনও লোক সমাগমের মাধ্যমে আয়োজন করা যাবে না। বৈশ্বিক এ দুর্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে। তবে এবার আমরা ‘ডিজিটাল’ পদ্ধতিতে বর্ষবরণ করব। প্রতি বছরই আমরা পোস্টার করি। এবারও করব। তবে সেটা প্রতিপাদ্যের ব্যাখ্যাসহ থাকবে। প্রতিবার প্রতিপাদ্যে আমরা নানা মোটিফের মাধ্যমে তুলে ধরি। এ বছর সেটি হবে না বলে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ‘দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ থেকে মানুষকে ধ্বংস করা যায় কিন্তু পরাজিত করা যায় না’ লাইনটি নেওয়া হয়েছে। যা দিয়ে প্রতিপাদ্যের ব্যাখ্যা শুরু করা হবে। যা এতদিন মোটিফের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হতো, সেটি এবার পোস্টারেই তুলে ধরা হবে।
ইয়ামিন/সাইফ
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2wAqx19
0 comments:
Post a Comment