
হবিগঞ্জে বন্যার হুমকিতে বোরো ধান
হবিগঞ্জ প্রতিনিধিহবিগঞ্জ জেলায় ১৫ এপ্রিল বুধবার দুপুর থেকে শুরু হয়েছে দমকা হাওয়া এবং বৃষ্টিপাত। ফসল পাকার পূর্বেই কালবৈশাখির এই চোখ রাঙানিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন হাওরাঞ্চলের কৃষক।
গেল তিন বছর অকাল বন্যায় হাওর তলিয়ে গিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির পর এবার করোনাভাইরাস আতঙ্কে শ্রমিক সংকট। তার উপর পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যার আশঙ্কা করে দ্রুত ধান কাটতে অনুরোধ জানিয়েছে। এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা অবস্থা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার হবিগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বোরোর আবাদ হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। এর মাঝে নিচু এলাকায় ৪০ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। যেগুলো দ্রুত কাটতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
জেলার কৃষকরা জানান, নিচু জমির কিছু এলাকায় কাটা শুরু হলেও অধিকাংশ জমিতেই সবেমাত্র বেরিয়েছে ধানের শীষ। যা পাকতে সময় লাগবে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ দিন। এ অবস্থায় বন্যার আশঙ্কায় দ্রুত ফসল কাটার জন্য বলা হচ্ছে। এনিয়ে তারা রয়েছেন আতঙ্কে। এখন ঝড়-বৃষ্টি হতে থাকলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ফসল।
আজমিরীগঞ্জের হিলালপুর গ্রামের কৃষক ওয়ারিশ মিয়া জানান, গেল তিন বছর অকাল বন্যার কারণে ফসলের মাঠ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হতাশা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তারা। এরই মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড দিয়েছে আরো এক অশনি সংকেত। এবারো অকাল বন্যার আশঙ্কা জানিয়ে ফসল কেটে ঘরে তোলার অনুরোধ জানিয়েছে সরকারি এই দপ্তর। একদিকে করোনাভাইরাসের থাবা আর অন্যদিকে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হওয়ার পূর্বেই অকাল বন্যার আশঙ্কায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অজানা আতঙ্ক।
এবারও যদি মাঠের ফসল তলিয়ে যায় তাহলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মেঘালয় এবং ভারত অববাহিকায় ১৫০-২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হতে পারে। যে কারণে তলিয়ে যেতে পারে হাওরের বোরো ফসল।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. তমিজ উদ্দিন খান জানান, বন্যার আশঙ্কায় কৃষকদেরকে দ্রুত ফসল ঘরে তোলার কথা বলা হচ্ছে। তবে নিচু এলাকার পাকা ধান কাটতে কমপক্ষে আরো ১৫ দিন লাগবে।
মামুন/টিপু
from Risingbd Bangla News https://ift.tt/3ew7dDg
0 comments:
Post a Comment